8:08 pm |আজ শনিবার, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৭শে নভেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:




গণ শব্দটি কোথা থেকে এলো?

গণ শব্দটি কোথা থেকে এলো?




গণ শব্দটি কোথা থেকে এলো?
দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু
…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’এই স্লোগানে যাত্রা শুরু করলো গণঅধিকার পরিষদ। দলটির মূল নীতি চারটি-গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঘোষিত দলটির প্রধান ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি আহ্বায়ক। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে। আর সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর দলটির সদস্য সচিব। ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের বর্তমান-সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এর আগে ২০২০ সালের জুনে নুর তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। ঘোষণা ঘোষণাই থেকে যায়। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর দল ঘোষণার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা হয়নি। পরিবর্তিত তারিখ ছিল ২০ অক্টোবর। প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। এরপর সেটিও পরিবর্তন করে ২৬ অক্টোবর প্রোগ্রাম করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেই মোতাবেক ২৬ অক্টোবর প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রাজধানীর পল্টনের প্রিতম জামান টাওয়ারে দলটির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নাম ঘোষণা করেন নুরুল হক নুর। নুরের উত্থান অনেকটা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে। নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক জন্ম ছাত্রলীগে। বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। এর আগে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মুহসিন হলের উপ-মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক। স্কুল জীবনে ছিলেন ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দপ্তর সম্পাদক। বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। ভিত্তিটা ছাত্রলীগে হলেও এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে বেদম মার খেতে খেতেই তার উতরে ওঠা। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশের কর্মসূচি দেন নূর। ওই সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ডাকসু ভবনে নুর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সদস্যদের ভীষণ মার দেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কর্মীরা। নেপথ্যে থাকে ছাত্রলীগ ছিল এমন গুঞ্জনও শোনা যায়। ওই মারে তার প্রতি মানুষের একটি সাধারণ সিম্প্যাথি তৈরি হয়। মারের পর দেয়া হয় মামলাও। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নুরু বিভিন্ন আন্দোলনে অন্তত সাতবার হামলার শিকার হন। এছাড়া একই সালে ডাকসু নির্বাচন চলাকালীন রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের অভিযোগে নুরুল হকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নূরসহ সাত জনকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল নুরের বিরুদ্ধে। সেই মামলার বিরুদ্ধে শাহবাগে বিক্ষোভ করছিলেন নুরুল হক নুর ও সাধারণ ছাত্র পরিষদ নামে তার সংগঠনের সদস্যরা। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের আটক করা হয় এবং কিছুক্ষণ পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতো মারের পরও নুর মাঠ ছাড়েননি- এটি তার অন্যতম গুণ বা অর্জন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের পুনঃজন্মকালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। বিগ শট নেতা ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমানও। মাজহারুল হক বাকী, আবদুর রউফও কম ছিলেন না। ফেরদৌস আহম্মেদ কোরেশী ছিলেন কিংবদন্তি । খালেদ মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল আলম খান, আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শেখ শহিদুল ইসলাম, এম এ রশিদ, মনিরুল হক চৌধুরী, শফিউল আলম প্রধান, ফজলুর রহমান, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরদের ছাপিয়ে এগিয়ে আছেন তারকা নুর। হালের তারকা নুরের গন্তব্য কোথায় ? কাকে নিয়ে, কাকে দিয়ে, কার মাধ্যমে, কার আশীর্বাদে এগোচ্ছেন ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের মতো ব্যক্তিদের স্নেহভাজন নুর। ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের ‘গণ’ এবং ড. কামালের দলের নেতা নিয়েই কি গঠিত হলো- গণ অধিকার পরিষদ? যদি তা না হয় তবে গণ শব্দটি কোথা থেকে এলো?

মালিবাগ, ঢাকা।

 

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ অক্টোবর, ২০২১/ দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান