আজ শুক্রবার, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজদিখানে কিস্তিতে নিম্নমানের পণ্য দিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণার অভিযোগ

আরো খবর

 

 প্রতিনিধি,মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কিস্তিতে ব্রান্ডের ইলেকট্রনিক সামাগ্রী বিক্রির নামে গ্রাহকদের নিম্নমানের ইলেকট্রিক পণ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আম্বালা ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে। এই এনজিও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই আকর্ষণীয় ছাড় আর সহজ কিস্তির কথা বলে নিম্নমানের পণ্য দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে লোভে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে স্থানীয় অনেকে। আর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এদিকে বিক্রিত পণ্যে গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি থাকা সত্ত্বেও নষ্ট হলে তা নতুন প্রদান কিংবা মেরামত করে দেয় না প্রতিষ্ঠানটি। উল্টো গ্রাহকদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, আম্বালা ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্রঋণের জন্য অনুমোদন নিয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রয় করার কোন অনুমতি নেই। কিন্তু তারা নিম্নমানের ইলেকট্রিক পণ্য দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছে। এর ফলে অনেক গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঠিকমতো প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনেক গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।ভোক্তভোগী মর্জিনা আক্তার বলেন, আমি আম্বালা ফাউন্ডেশন থেকে একটি ঋণ নিয়েছি। সেই ঋণ চলাকালীন তারা অনেক জোরাজুরি করে আমাকে একটি স্মার্ট টিভি কিস্তিতে নিতে বলে। তারা বলে কিস্তিতে টেলিভিশন নিলে আমরা সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেবো। আগে নগদ ৯হাজার টাকা দিয়ে মাসে ২০০০ টাকা কিস্তিতে টেলিভিশন নিতে হবে। অনেক জোরাজুরির পর আমি কিস্তিতে একটি টিভি নেই। আনার ৯ মাসের মধ্যে কিস্তি শেষ করি। কিন্তু টিভি আনার এক -দেড়বছর পর নষ্ট হয়ে যায়। আমি তাদের কাছে জানালে তারা আমার টেলিভিশনটি তাদের কাছে নিয়ে যায় ঠিক করে দিবে বলে। এখন দেই দিচ্ছি এগুলো বলতে বলতে আমাকে ৪-৫ মাসের বেশি সময় ধরে ঘুরাচ্ছে। মনে হয় আমার টেলিভিশনটি তারা দিবে না। এখন আমি কার কাছে যাবো? ৩২ হাজার টাকা দিয়ে টেলিভিশন কিনেছি যদি চালানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। তাহলে তারা বিক্রি করে কেন?আম্বালা ফাউন্ডেশনের সিরাজদিখান শাখা (৪) ব্যবস্থাপক  মো. সুজাউল ইসলাম বলেন,‘আপনাকে কোন তথ্য দিতে আমি রাজি নই। আর ট্রেড লাইসেন্স লাগে না আমাদের এগুলো বিক্রি করতে। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।’উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন মধু বলেন, আমার জানা মতে আম্বালা ফাউন্ডেশন শুধু ক্ষুদ্র ঋণের জন্য অনুমোদন আছে। কিন্তু তাদের ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রয় করার কোন অনুমতি নেই। এক্ষেত্রে আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো যদি এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে,তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

 

 

আলোকিত প্রতিদিন // আতারা

 

- Advertisement -
- Advertisement -