প্রতিনিধি, শ্রীনগর ( মুন্সীগঞ্জ):
শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলে ফুলের (উলু ফুল) ঝাড়ু– বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে মো. ইস্রাফিল মাদবর নামে এক উদ্যোক্তা। প্রায় এক যুগ ধরে “বিক্রমপুর কুটির শিল্প” নামে একটি কারখানা গড়ে তুলেন তিনি। কারখানায় তৈরীকৃত এসব ঝাড়ু– দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারীভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক দিনব্যাপী এসব ঝাড়ু– বাঁধার কাজে কর্মরত রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শতাধিক ফুলের ঝাড়ু– তৈরী হচ্ছে তার কারখানায়। বিক্রমপুর কুটির শিল্পে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার পিস ঝাড়– উৎপাদন হচ্ছে। বছরে ইস্রাফিল মাদবরের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ফুলের ঝাড়ু– বিক্রি হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, একটি টিন শেড বিল্ডিংয়ের মধ্যে ঝাড়ু– বাঁধাই করা হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক হাতে এসব উলু ফুলের কাঠি সঠিক মাপে কেঁটে চিকন গুনা/তার ও কস্টিভ প্যাঁচিয়ে ঝাড়ু– বাঁধাই করছেন। একেকটি ঝাড়ু– বাঁধাই কাজে সময় লাগছে মাত্র ৩-৪ মিনিট। এ সময় শ্রমিক সজল শেখ ও সবুজ মাদবর বলেন, তারা এখানে সকাল-সন্ধ্যা কাজ করেন। বাঁধাই করা এসব ঝাড়ু– গুনে মজুরী নেন তারা। প্রতিটি ঝাড়ুর মজুরী বাবদ তারা পাচ্ছেন ২ টাকা ২০ পয়সা করে। একাজে দিন শেষে তাদের ৬০০-৭০০ টাকা কামাই হচ্ছে জানান তারা। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ভাগ্যকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারগাঁওয়ের মো. ইব্রাহিম মাদবরের পুত্র মো. ইস্রাফিল মাদবর ঝাড়ুর– কারখানাটি প্রথমে বালাশুর এলাকায় সীমিত পরিসরে শুরু করেন। পরে কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ কামারগাঁও তার বসতবাড়িতে নিয়ে আসেন। এছাড়াও ইস্রাফিলের ২ ভাই কাদির মাদবর ও শওকত মাদবর কামারগাঁওয়ে আরো ২টি ঝাড়ুর কারখানা গড়ে তুলেন। ব্যবসাটি লাভজন হওয়ায় ওই এলাকার হফিজুল মোল্লার পুত্র সালাম মোল্লা একই এলাকার মোকার দোকানের সামনে ১টি ঝাড়ুর কারখানা করেন। এসব ঝাড়ুর তৈরীর প্রধান উপকরণ উলু ফুল আনা হচ্ছে বান্দরবন থেকে। তৈরীকৃত এসব ফুলের ঝাড়ু – পাইকারীভাবে বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ঝাড়ু– বিক্রি করেই তারা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বিক্রমপুর কুটির শিল্পের কর্ণধার মো. ইস্রাফিল মাদবরের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দোকানীদের চাহিদা অনুসারে পাইকারী দরে এসব ঝাড়ু পৌঁছে দেওয়া হয়। উলু ফুলের মান ও আকার অনুসারে এসব ঝাড়ুর দাম নির্ধারণ করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২১/ আর এম
- Advertisement -

