আজ শনিবার, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টেকনাফে পাওয়া গেল তিন লাখ টাকা দামের পোপা মাছ

আরো খবর

প্রতিনিধি, টেকনাফ:
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জেলেদের জালে আজ শনিবার ভোররাতে  ধরা পড়েছে ২৭ কেজি ওজনের আরও একটি পোপা মাছ। স্থানীয় লোকজন ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মাছটি “কালা পোপা’ নামে পরিচিত। তবে এটি বেশি পরিচিত রুপালি পোয়া নামে। এটি লম্বায় প্রায় সাড়ে তিন।
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলম কোম্পানির ট্রলারের জালে পুরুষ প্রজাতির এ মাছটি ধরা পড়ে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলে জালে ২৭ কেজি ওজনের বড় পোপা মাছটি ধরা পড়ার খবর তিনি শুনেছেন। সাধারণত এতো বড় পোপা মাছ ধরা পড়ে না। এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Myeteroperca bohaci)। পোপা মাছের বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডারের কারণে মাছটির মূল্য বেশি। এয়ার ব্লাডার দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি হয়, এ জন্য মাছটির এতো দাম।
ট্রলার মালিক শাহ আলম কোম্পানি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে হোসেন আহমদ মাঝি(চালকের) নেতৃত্বে ১০জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জাল ফেলেন।
ট্রলারের মাঝি (চালক) হোসেন আহমেদ বলেন,শনিবার ভোররাত তিনটার দিকে জাল টেনে তুললে বড় একটি মাছের আলামত দেখা যায়। পরে ট্রলারের ১০জন জেলে দেড় ঘণ্টা ধরে জাল টানেন। ওই জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে উঠে আসে বড় ওই পোয়া মাছটি। বড় মাছ জালে ধরা পড়ায় জেলেরা সবাই খুশি। কারণ এই মাছ দাম কয়েক লাখ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব।
ট্রলার মালিক শাহ আলম কোম্পানি বলেন, সাগর থেকে জেলেরা বড় মাছ জালে ধরা পড়ার বিষয়টি জানান। সঙ্গে সঙ্গে বড় মাছ ধরা পড়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শনিবার সকাল ৮টার দিয়ে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মিস্ত্রীপাড়া ঘাটে পৌঁছালে উৎসুক জনতা মাছটি দেখার জন্য ঘাটে ভিড় করেন। টেকনাফে মাছের দাম হাঁকা হয় তিন লাখ টাকা। তবে মাছের চেয়ে মাছের পেটে থাকা পটকার দাম বেশি হওয়ায় এত দাম হাঁকানো হচ্ছে। এই মাছে এক কেজির বেশি পটকা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শাহ আলম কোম্পানি বলেন, মাছটি  কক্সবাজারে ফিশারি ঘাটে নিয়ে বিক্রয় করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী বিদেশে মাছ ও মাছের পটকা রপ্তানি করে থাকেন। পটকা বা ফুসফুসটির ওজন ৯০০ গ্রামের বেশি হলে বিক্রি করে ভালো লাভ হবে।
শাহ পরীর দ্বীপের মাছ ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন,বছরের শুরুতেই আরও একটি কালো পোয়া মাছ ধরা পড়েছিল এ ট্রলারে। এর মাছের পটকা থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়। তাই এ মাছের এতো দাম। শুকনা প্রতি কেজি পটকার (স্থানীয় ভাষায় এর নাম ফর্দানা) দাম প্রায় তিন লাখ টাকা। জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পোয়া মাছের পটকার দাম অনেক বেশি। তাই জেলেদের কাছে পুরুষ পোয়া মাছের কদর বেশি।
তিনি আরও বলেন, মাছটির মুখছোট, চোখ বড়, পাখনার ওপরের অংশে হলুদ ও কালো দাগ, পিঠের পাখনার আট-নয়টি কীটা, পায়ুপথ দ্বিতীয়টি বড় প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই এটি রুপালি পোয়া।
সাবরাং ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, এই মাছের দাম প্রচুর পাওয়া যায়। চলতি বছরের গত ৮ মার্চ ৩৬ কেজি ৭০০ গ্ৰাম ওজনের পোপা মাছ বিক্রি করা হয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় । ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৮ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার টাকায়।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২২ আগস্ট, ২০২১/ দ ম দ
- Advertisement -
- Advertisement -