প্রতিনিধি,ধামরাই(ঢাকা)
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ধামরাই- কালামপুর সড়কটি স্থানীয়দের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়েই কয়েক লক্ষ মানুষের চলাচল রয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই অংশে কোন সড়ক দূর্ঘটনা কিংবা জ্যাম হলে চালকরা এই সড়কটিই বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশেই প্রতিদিন ১০/১৫ ট্রাক করে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। যা পথচারীদের ভুগান্তীসহ দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।শুধু তাই নয় ঢাকা আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া এবং ধামরাই থানা রোড সড়কের পাশে গাড়ি গাড়ি ময়লা ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। পথচারীরা নাক চেপে গাড়িতে বা পায়ে হেঁটে রাস্তা পাঁড়ি দেয়। কারণ ময়লার তীব্র গন্ধে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয় পথচারীদের। ধামরাই পৌরসভার বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায় তা ফেলা হচ্ছে এই সব রাস্তার পাশের গর্তে। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পরেছে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরা। ট্রাক,ভ্যান দিয়ে বর্জ্য রাস্তার পাশে গর্তে ফেলার সময় ওই বর্জ্য কিছুটা রাস্তার মধ্যেও পড়ছে। আর এতে যে কোন সময় মটরসাইকেল পিছলে পড়ে বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পথচারীরা। রাস্তার পাশে এভাবে বর্জ্য ফেরার অপরাধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার জরিমানা ও মারধরও করা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই থামছে না এই কার্যক্রম। মফিজুল ইসলাম জনান, আমি একটি মোবাইল সিম কার্ড কোম্পানিতে চাকরি করি। মটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। বেশ কয়েক দিন ধরে দেখছি এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট থাকার পরও বাজে দুর্গন্ধ আসে যা খুবই বিরক্তিকর। এছাড়াও রাস্তার মধ্যে ময়লা বর্জ্য পরে থাকে যা আমাদের জন্য খুবই ঝুঁকির ও কষ্টকর । যে কোন সময় মটরসাইকেল স্লিপিং করে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তার পাশে এরকম বর্জ্য ফেলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিৎ না। অটোরিকশা চালক মোঃ জামাল জানান, আমি কালামপুর টু ধামরাই রিকশা চালাই। কয়েকদিন ধরেই দেখছি এখানে এই ময়লা আবর্জনা ফেলতে। ধামরাই পৌরসভার গাড়ি এসে এখানে এই ময়লা ফেলে যায়। অনেক দুর্গন্ধ আসে। এই দুর্গন্ধে আমার রিকশার অনেক যাত্রীরই ভমি করে দেয়ার মত অবস্থা হয়ে যায়। এখানে আসলেই রিকশা আরো বেশি জুরে চালাতে হয়। বর্জ্য ফেলার পাশেই রয়েছে পোল্ট্রি ফিড ও চালের মিল। সেখানকার এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন পৌরসভার গাড়ি এসে এখানে বর্জ্য ফেলে যায়। পৌরসভার গাড়ি দেখে কেও কিছু বলে না। ময়লা আবর্জনার জন্য এখানে কুকুরের উৎপাতও বেড়ে গেছে। আমরা করোনার জন্য মাস্ক পড়ে কাজ করি তার পরও সারাক্ষণ আমাদের নাকে দুর্গন্ধ আসে। বাধ্য হয়েই এসব সইয়েই কাজ করতে হয়। মনে হয় কোন অপরাধ করে জেলখানায় আসছি দুর্গন্ধ হচ্ছে তার শাস্তি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোঃ রেজাউল করিম (১৯) জানান, আমাদের পৌরসভার সুজন, নিকলু ও দেলোয়ার স্যার এসে এখানেই বর্জ্য ফেলতে বলছে তাই আমরা এখানে বর্জ্য ফেলি। পৌরসভার তিনটি ট্রাক গাড়ি দিয়ে এখানে বর্জ্য ফেলানো হয়। আমি এক নাম্বার গাড়ি চালাই। আরো দুইটা গাড়ি আছে। আমি প্রতিদিন পাঁচ গাড়ি করে বর্জ্য এনে ফেলে যাই। আর বাকি দুই গাড়িও ওরকমই পাঁচ গাড়ি করে বর্জ ফেলে । ধামরাই পৌরসভার জুনিয়র প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, আমার এবিষয়ে কোন দ্বায়িত্ব নেই। তবে ওই সড়কটা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের আন্ডারে। ওনারাই আমাদের বলেছেন ওখানে বর্জ্য ফেলতে তাই আমরা ওখানে ফেলছি। পৌরসভার উচ্চমান সহকারী (পরিচ্ছন্নতা) সুজন দেওয়ান জানান, আমাদের পৌরসভার তিনটি গাড়ি আছে তবে দুটি গাড়ি দিয়ে ওখানে বর্জ্য ফেলা হয়। আর প্রতিদিন ১৫ গাড়ির মত বর্জ্য ফেলা হয় এটা ভুল। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর থেকে আমাদের বলা হয়েছে ওখানে বর্জ্য ফেলার জন্য। তাই আমরা ওখানে ফেলছি।
রাস্তার পাশে পৌরসভার বর্জ্য ফেলানোর অনুমতি দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গাউস-উল- হাসান মারুফ বলেন, প্রশ্নই উঠেনা এধরনের অনুমতি দেয়ার। আমরা সবসময়ই বলে থাকি রাস্তার পাশে কোন ময়লা- আবর্জনা ফেলা যাবে না। এমনকি পৌরসভার কয়েকজনকে এবিষয়ে মারধরও করা হয়েছে। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা কয়েকবার পৌরসভার লোকজনদের জরিমানা করিয়েছি। পৌরসভার বর্জ্য ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মারধর বা জরিমানা করেও তাদের থামানো যাচ্ছে না।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ আগস্ট ২০২১/ আর এম
- Advertisement -

