9:03 pm |আজ শনিবার, ৩১শে আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
ঈদগাঁও রেঞ্জের অভিযানে ১ একর বনভূমি জবরদখল মুক্ত ফেনীতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে  জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত ৬  হলোখানা ইউনিয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্দ্যেগে বকনা বাছুর বিতরণ রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে নবীনগরে হিন্দু-মুসলিম মিলে মানববন্ধন  বেগমগঞ্জ চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা ভেঙে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সমাবেশ ও সাংবাদিকের উপর হামলা ধামইরহাটে বেনিদুয়ার ক্যাথলিক ধর্ম পল্লীতে দম্পতি সেমিনার অনুষ্ঠিত কাঁঠালিয়ায় পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা প্রশস্তের দাবীতে মানববন্ধন বিরুলিয়া ২নং ওয়ার্ড নেতা তাইজুল ইসলামের ভোট প্রার্থনা শুরু




তেজগাঁও কলেজের ইতিবৃত্ত এবং নামকরণ-এনায়েত হোসেন ইনু

তেজগাঁও কলেজের ইতিবৃত্ত এবং নামকরণ-এনায়েত হোসেন ইনু




১৯৬১ সালে জনাব মাওলানা আবুল খায়েরের কর্মপ্রচেষ্টায় ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে ইসলামিয়া হাই স্কুলে “ঢাকা নাইট কলেজ” নামে আজকের এই তেজগাঁও কলেজের সর্বপ্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। তখন কলেজটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজ উদ্দীন আহমেদ আর সম্পাদক ছিলেন জনাব শফিকুল ইসলাম। বিনা বেতনে সে সময়ে শিক্ষকেরা ক্লাস নিতেন। কিছুদিন পরে জনাব মফিজ উদ্দীন কলেজটিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তর করেন। ১৮ মাস পরে কলেজটিকে তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুলে (বর্তমান তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) স্থানান্তর করা হয়। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ সন পর্যন্ত ক্লাস চলার পর থেকে নানান প্রতিকূলতায় কলেজটিকে আবারও স্থানান্তর করতে হয়। এবার স্থানান্তরিত হয় তেজগাঁও শিল্প এলাকার আসাদুল হকের ক্রাউন লন্ড্রিতে। কলেজটির অধ্যক্ষ তখন জনাব আমিনুল ইসলাম। ওখানেও বেশিদিন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নাই। পরবর্তীতে তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে কলেজটিকে ফার্মগেটের বর্তমান আল-রাজী হাসপাতালের জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। সময়ের বিবর্তনে তখন কলেজটির নামকরণ করা হয় ‘ঢাকা নাইট কলেজ’ থেকে “তেজগাঁও কলেজ”।
১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে জনাব তোফায়েল আহমেদ অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বে এবং নিরলস পরিশ্রমে কলেজটির একটি স্থায়ী নিবাস তৈরি হয়। সেসময়কার  ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ঢাকার ফার্মগেটে কলেজ ও ছাত্রাবাসের জন্য জায়গা নেওয়া হয়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব ইউসুফ আলীর দেওয়া ১২টন ঢেউটিন দিয়ে প্রথমবারের মতো কলেজের নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং ফার্মগেট সংলগ্ন ১৬ নম্বর ইন্দিরা রোডে নিজস্ব অবকাঠামোতে অর্থাৎ স্থায়ী ঠিকানায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৯৮ সনে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং একজন সৃষ্টিশীল মানুষ জনাব মো: আবদুর রশীদ। তাঁর নেতৃত্বে তেজগাঁও কলেজের অভূতপূর্ব উন্নয়ন এগিয়ে চলে। মাঝখানে আওয়ামী লীগ সরকারে না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকখানি ব্যহত হয়। ২০০৯ সনে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠনের সাথে সাথে জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল (এমপি) এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সময়োচিত দিক নির্দেশনায় বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রশীদের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরানের ঐকান্তিক সহযোগিতায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অকুণ্ঠ সমর্থনে কলেজটির আকাশচুম্বী উন্নয়ন সাধিত হয়। বহুতল বিশিষ্ট অসংখ্য ভবন, দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, চোখে পড়ার মতো একটি প্রধান গেট এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেখলেই দশ বছর আগের দেখা যে কেউই বর্তমান অবস্থান দেখলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াবেন এবং অত্র কলেজ শুভাকাঙ্ক্ষীগণ নিঃসন্দেহে গর্বিত হয়ে উঠবেন। ২৩ হাজারের ঊর্ধ্বে ছাত্রছাত্রী এবং চার শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পদচারণায় মুখরিত আজকের এই কলেজ সত্যিকার একটি অসাধারণ সৃষ্টি। এই সৃষ্টিকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে মাননীয় অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ এর নামানুসারে তেজগাঁও কলেজ অডিটোরিয়াম এর নাম “অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রশীদ অডিটোরিয়াম” নামকরণের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান এর প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী।
পাশাপাশি কলেজটির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে কিছু চুম্বকীয় অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে এই কারণে যে, এই কলেজটি বহুবার স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে ১৯৭১ সনে যে জায়গায় একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছিল, ঠিক সেই ফার্মগেট এলাকায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছিল। আপনারা জানেন যে, ১৯৭১ সনের ২৫শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। সেই অপারেশন সার্চলাইটের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল এই ফার্মগেটে। আর সেই প্রথম ব্যারিকেডের নেতৃত্বদানকারী নেতা ছিলেন সে সময়ের তরুণ ছাত্রনেতা জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল। যার নাম ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়টি আমাদের পাঠ্যপুস্তকেও লিপিবদ্ধ করার জন্য একটি প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে। ফার্মগেটের সেই ঐতিহাসিক প্রথম ব্যারিকেডকে ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রাখতে এবং যার হাত ধরে আজকের এই তেজগাঁও কলেজ বাংলাদেশের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শীর্ষে পৌঁছেছে এবং যিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘসময় ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর নামানুসারে তেজগাঁও কলেজের নামকরণ “বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ” করার জনাব ফরিদুর রহমান খান ইরানের প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।
লেখক : এনায়েত হোসেন ইনু
সদস্য, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ
সহ সভাপতি, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগ
আলোকিত প্রতিদিন/সাগর

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান