আবু সায়েম, কক্সবাজার : কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন পানেরছড়া রেঞ্জের তুলাবাগান বনভুমিতে ২য় বারের মতো পানের বরজ স্থাপনের প্রাক্কালে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলকৃত সংরক্ষিত বনের দুই হেক্টর বনভূমি উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এ সময় নতুনভাবে তৈরীকৃত ৪টি অবৈধ পানের বরজও উচ্ছেদ করা হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের তুলাবাগান বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বনভূমি জবরদখল মুক্ত করা হয়।
গত ১২ জুলাই সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে এসব বনভূমি দখলমুক্ত হয়। কিন্তু ১ মাস না যেতেই এলাকার দখলবাজ চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের জায়গা দখল করে নতুন করে পানের বরজ স্থাপন করে। বিষয়টি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের নজরে আসলে তিনি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
অদ্য ১১ আগষ্ট দুপুরে রামু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান টগরের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও বনবিভাগ স্টাফগণের যৌথ সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে পুনরায় নতুনভাবে তৈরীকৃত পানের বরজ ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন,সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল মুক্ত করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। দখলবাজ এবং জবরদখল কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে রামুর সকল সংরক্ষিত সরকারি জায়গা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ডিএফও হুমায়ুন কবির জানান, কক্সবাজার এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, এলাকার প্রভাবশালী, সরকার দলসহ নানা রাজনৈতিক মতাদর্শের দখলবাজরা বিভিন্ন কৌশলে পাহাড়ের সব ধরনের জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। তারা বনায়নের জমিও বাদ দেয়নি। তেমনিভাবে পানেরছড়া রেঞ্জের তুলাবাগান বনের ভেতর পানের বরজ তৈরি করে দখলে নিয়েছিল চিহ্নিত দখলবাজরা। গত ১২ জুলাই সোমবার দুপুরে পানের ছড়া, তুলাবাগান ও খুনিয়াপালংয়ের বনকর্মীরা একযোগে সরকারি বন ভূমিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হেক্টর বন ভূমি জবরদখল মুক্ত করে বন ভূমি দখলে নেয় বনবিভাগ। গুড়িয়ে দেয়া হয় পাহাড় তৈরি করা পানের বরজগুলো।
কিন্তু ১ মাস না যেতেই আবারো পানের বরজ তৈরি করেছে সংঘবদ্ধ দখলবাজ চক্র। বিষয়টি নজরে আসলে আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আবারো সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল মুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হুমায়ুন কবির আরও বলেন, সুবিধাভোগীদের লোলুপ-দৃষ্টি সবসময় বন ও বনভূমি প্রতি পড়ে। বাড়ে দখলদার। লোকবল সংকটের কারণে অনেকসময় ইচ্ছে থাকার পরও সময় মতো অভিযান চালানো যায় না। সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল মুক্ত করতে বন অধিদপ্তরের কড়াকড়ি নির্দেশনা রয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান টগর বলেন,দখলে অভিযুক্ত এলাকাগুলোতে এখন থেকে কঠিন নজরদারি রেখে করোনা কালেও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। দখলদার যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনের আওতায় আসবে তাদের সহযোগীও।
আলোকিত প্রতিদিন/সাগর

