প্রতিনিধি,ফরিদপুরঃ
ফরিদপুর রেল স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে নানা বিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । লোডিং আনলোডিং এর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সৈয়দ কনস্ট্রাকশন এ অভিযোগ করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় স্টেশন মাস্টার তাকদীর হোসেন কতিপয় দুর্বৃত্তের ছত্রছায়ায় দুর্নীতি-অনিয়ম ও অবৈধ কার্যকলাপ করে আসছে। সৈয়দ কনস্ট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী সৈয়দ হাকিমুদ্দিন আহমেদ শান্তর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে লোডিং আনলোডিং এর কাজ করে আসছিলাম কিন্তু বর্তমানে স্টেশনমাস্টার আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করলে আমরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানাই তার কারণে স্টেশন মাস্টার আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের লোডিং আনলোডিং এর কাজ স্থগিত করে দেন।তিনি বলেন বিনা নোটিশে আমার প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের আদেশ কিভাবে দেন তা তিনি স্পষ্ট নয়?এ ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি বরং স্টেশনমাস্টার একটি কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে, এ ব্যাপারে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনে করেছিলাম । অভিযোগে আরো উঠে আসে স্টেশন মাস্টার রেলের জায়গা এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর ডেকোরেটরের মালামাল রাখার জন্য মাসিক মাসোহারায় ভাড়া দেন। বর্তমানে তিনি লোডিং আনলোডিং এর কাছ নিজেই করে থাকেন এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে টাকা আসে তা তিনি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন। রেলওয়ে কর্মচারীদের থাকার কলোনি বহিরাগতদের নিকট ভাড়া দিয়েছেন এবং সেখান থেকেও তিনি বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেন । উক্ত কলোনি বর্তমানে মাদক বেচাকেনার একটি হটস্পট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় একটি বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ ও মাদক কারবারির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এখান থেকেও স্টেশন মাস্টার বড় ধরনের মাসোহারা পেয়ে থাকেন। স্টেশন মাস্টার তাকদীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি করণা হয়েছেন বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টাপাল্টা কথা বলে ফোন কেটে দেন। উক্ত অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এবং এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাহিরে আছেন পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ম্যানেজার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বর্তমানে লোডিং আনলোডিং এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নেই তাই স্টেশন মাস্টারের উপরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তবে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবেন না মালামাল যে প্রতিষ্ঠানে আনবেন উক্ত প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে আনলোডিং করে নিয়ে যাবেন তবে এ ব্যাপারে যদি টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে স্টেশন মাস্টারের সংশ্লিষ্টতা থাকে এবং আমরা যদি অভিযোগ পাই তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আলোকিত প্রতিদিন/৮ আগস্ট ২০২১/ আর এম
- Advertisement -

