7:10 am |আজ সোমবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই সফর ১৪৪৩ হিজরি




চট্রগ্রামের শেখ দিদারুল ইসলাম সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করায় পত্রিকা হতে বহিষ্কার 

চট্রগ্রামের শেখ দিদারুল ইসলাম সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করায় পত্রিকা হতে বহিষ্কার 




আবু বকর সিদ্দিক : বানিজ্যিক রাজধানীক্ষেত বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন  যাবৎ দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দূর্নীতির মাধ্যমে পত্রিকার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মানুষের নিকট হতে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। হেড অফিসকে অবগত না করে ভুয়া আইডি কার্ড ইস্যু করে প্রতিষ্ঠানকে যেমন করেছেন কলঙ্কিত ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল আত্মসাৎ করায় পত্রিকা  আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত ৫ জুলাই ২০২১ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিককে জরিমানা শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। এতে করে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। মুজিবুল হক পারভেজ  লকডাউনে সাংবাদিক পরিচয়ে রাইড শেয়ারিং এর দায়ে চট্টগ্রামের টাইগারপাস মোড়ে মেট্রো পলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও র‌্যাব -৭ আটক করলে তিনি নিজেকে আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে কার্ড শো করেন। এতে প্রশাসনের সন্দেহ হলে যাচাই করতে হেড অফিসে যোগাযোগ করে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট। হেড অফিসের ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় মুজিবুল হক পারভেজ নামে প্রতিষ্ঠানে কোন প্রতিনিধি নেই। যে কার্ড তিনি দেখিয়েছেন তার আইডি নং ১৬৪ যা বিজনেস এডিটর মুহিবউল্লাহ চৌধুরীর নামে ইস্যুকৃত কার্ড বলে প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় যে, উক্ত ভুয়া কার্ডটি শেখ ‍দিদারুল ইসলাম বানিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি সময়ে শেখ দিদারুল ইসলাম চৌধুরীকে এসব দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে তার নামে ইস্যুকৃত বিশেষ প্রতিনিধির কার্ড ফেরৎ চেয়ে ও অনিয়মের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও তা আমলে না নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোকিত প্রতিদিন এর প্রতিনিধি পরিচয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অপকর্ম। আলোকিত প্রতিদিনের ক্রাইম রিপোর্টার আবু বকর সিদ্দিককে উক্ত বিষয়ের সত্যতা উৎঘাটন পূর্বক তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম পাঠানো হলে বেড়িয়ে আসে শেখ দিদারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সাধারণ মানুষ ঠকানোর বিভিন্ন কলা-কৌশল। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারি ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে  সিরাজুল ইসলাম, দূর্জয় পালসহ ৫-৭ জনের নিকট থেকে জন প্রতি ১৭ হাজার টাকা করে কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে দিদার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বিশেষ প্রতিনিধি করে দিবে বলে আমার নিকট হতে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। ১০ জনকে প্রতিনিধির কার্ড ইস্যু করে দিবে বলে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। বিভিন্ন নিউজ করতে গিয়ে তিনি টাকা গ্রহণ করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল বাবদ  দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন তথ্য উঠে আসে তদন্ত রিপোর্টে। জনাব দিদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর গুলোতে মেইল পাঠানো হয়েছে ।
অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাংলাদেশের সকল প্রতিনিধিকে তার সাথে অফিসিয়াল কোন সম্পর্ক  বা লেনদেন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয় গত ০৮/০৭/২০২১ ইং তারিখ থেকে শেখ দিদারুল ইসলাম আলোকিত প্রতিদিনের কোন পদে নেই তাকে দূনীতির দায়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো বিধায় সাধারণ জনগণ তার খপ্পরে পড়ে নিঃশ্ব হবেন না। স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রেরিত পত্রের আলোকে তদন্ত পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানান পত্রিকার সম্পাদক মহোদয়। সম্পাদক আরো বলেন, ইতিপূর্বে গত রমজান মাসে শেখ দিদারুল ইসলামের বড় ভাই শেখ রাশেদুল ইসলাম ওয়াজিরকে দূর্নীতির দায়ে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকা থেকে যেভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল ঠিক  তদ্রুবভাবে শেখ দিদারুল ইসলামকেও বহিষ্কার করা হলো। প্রয়োজনে পত্রিকার পক্ষ হতে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আশ্রয় গ্রহণ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ সা হা

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান