আজ শনিবার, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৯ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘিওরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট জমে উঠেছে

আরো খবর

সৈয়দ এনামুল হুদা, মানিকগঞ্জ:

বর্ষার আগমনে এবং নদীতে  ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের ঘিওরে শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট জমে উঠেছে। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় এবং হরিরামপুরের নিম্নাঞ্চলের এলাকায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরীসহ ছোট-বড় কয়েকটি নদীবেষ্টিত এই জেলাটি। এ সকল এলাকার মানুষের জন্য বর্ষা মৌসুমে চলাচল এবং বেচা-কেনার জন্য একমাত্র সঙ্গী হচ্ছে নৌকা। এই জন্যে জেলার চারটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষেরা নৌকা ক্রয় করতে ঘিওর হাটে আসা যাওয়া করছেন।

বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের এলাকার বিভিন্ন স্থানের মানুষের চলাচলের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় নৌকা ক্রয় করতে ঘিওর হাটে এসেছেন তারা।

উপজেলার ঘিওর বাজারের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্রতি বুধবার এই ঐতিহ্যবাহী হাট বসে। ঘিওরের বিখ্যাত কারিগরদের তৈরি নৌকা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হয় বিভিন্ন জেলায়। অপরদিকে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিস্ত্রিপাড়ার নারী-পুরুষরা। এ সকল নৌকা তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আম, চাম্বল এবং রেইন্টি কাঠের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই মিস্ত্রিপাড়ায় ধুমধাম শব্দ হয়। বর্ষা মৌসুম শুরুর কিছু আগে থেকেই কারিগররা নৌকা তৈরি শুরু করেন এ নৌকা তৈরি চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত।

তবে বর্তমান সময়ে ছোট ডিঙি ও কোষা নৌকার কদর বেশি। এগুলি নির্মাণে কড়ই, জাম্বল, আম ও কদম কাঠের প্রচলন বেশি।

বুধবার (৭ জুলাই)  সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, করোনার দ্বিতীয় ধাপের প্রকোপের কারণে যথাসাধ্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের নৌকা ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য সাজানো রয়েছে নানা ধরনের হাজারো নৌকা। এখানে সাধ্যের মধ্যে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য সাড়ি সাড়ি নৌকা সাজানো রয়েছে।

এ বিষয়ে ঘিওর বাজারের কাঠমিস্ত্রি রবি সূত্রধর, নিলকমল সূত্রধর, মাসুদ ও হারেছ জানান, সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে ২০টির মতো নৌকা হাটে যায়। লকডাউনের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় বর্তমানে কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরির খরচ বেড়েছে। নৌকার আকার ও প্রকারভেদে সাড়ে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে নৌকা। তবে লাভের অংশ আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।

নৌকা বিক্রেতা কুস্তা গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, নৌকার দাম আগের তুলনায় এখন কম। ১০ হাত লম্বা ৩ হাত প্রশস্ত নৌকা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় এবং ১২ হাত লম্বা ৩ হাত প্রশস্ত নৌকা ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রয় হচ্ছে নৌকা।  তিনি আরও জানান, আমি প্রতি হাটে প্রায় ৪০টি নৌকা নিয়ে আসি।

নৌকা ক্রয় করতে আসা বহরার তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমি চারটি নৌকা ক্রয় করলাম। এর মধ্যে ১০ হাতের দুটি নৌকা ৮ হাজার টাকায় এবং ১২ হাতের দুটি নৌকা ১০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি।

এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, এত বড় নৌকার হাট আমার নজরে আর কোথাও পড়েনি। এই হাটটি আমাদের জেলা ও উপজেলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। তিন পুরুষের কাছে শুনেছি এই হাটের ঐতিহ্যের কথা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ হাটে নৌকা কিনতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

ঘিওর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ঘিওর নৌকার হাট পশ্চিম মানিকগঞ্জের একটি সমৃদ্ধ হাট। ঘিওর বাসির জন্য এই হাটটি একটি অহংকার। এই হাটকে উদ্দেশ্য করে অনেক দূর-দুরন্ত থেকে মানুষ এই হাটে আসে। এতে করে তারা শুধু নৌকা বেচাকেনাই করেনা আরও অনেক কিছুই কেনাবেচা হয়। বিধায় এর মাধ্যমে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘিওর নৌকার হাটের জন্য যেহেতু নির্ধারিত জায়গা নেই বিধায় যদি এর জন্য নির্ধারিত জায়গার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এলাকাবাসী আরও উপকৃত হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/৭ জুলাই-২১/এসএএইচ

- Advertisement -
- Advertisement -