প্রতিনিধি, রাজশাহী:
সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মাদকের সাথে জড়িত থাকায় রাজশাহী মহানগর যুবলীগের ৫ সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শনিবার(২৬ জুন) রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সভাপতি মো. রমজান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হােসেনের সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃত সদস্যরা হলেন-১০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাকির হােসেন শাওন, ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ শেখ,১৯নং ওয়ার্ড (উত্তর) যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরােজ শেখ এবং ২৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মাে. সাব্বির। এছাড়া রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং সাধন কুমার ঘোষ এর দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং স্থায়ী ভাবে বহিষ্কারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, গত ১৭ জুন ২০২১ইং তারিখ অনুমান রাত্রী ০৯টার সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন রাসিক এর ১০নং ওয়ার্ডের আওতাধীন লিচুবাগান মহল্লার মসজিদে হামলার সংক্রান্তে মিথ্যাতথ্য উপস্থাপন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টির দায়ে গােপন তথ্যের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মাদকের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাওয়ায়, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সুপারিশক্রমে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, রাজশাহী মহানগরের সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং সাধন কুমার ঘােষ এর দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হলাে এবং স্থায়ী ভাবে বহিষ্কারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানাের কথা বলা হয়। সেই সাথে একই অপরাধে ১০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সাধারন সম্পাদক জাকির হােসেন শাওন কে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় উষ্কানীমূলক বক্তব্য প্রকাশের জন্য ও দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ শেখ কে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়। মাদকের সাথে জড়িত ও সংগঠন বিরােধী ষড়ন্ত্রমূলক কর্মকান্ডে দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৯নং ওয়ার্ড (উত্তর) যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফিরোজ শেখ ও ২৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মােঃ সাব্বিরকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরােও জানানাে হয় যে, কিছুদিন যাবৎ যুবলীগের কতিপয় ওয়ার্ডে নেতৃবৃন্দের সংগঠন বিরােধী অপতৎপরতা মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি গােচর হওয়ায় মহানগরের অন্তর্গত সকল ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দকে যে কোন প্রকার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মহানগর যুবলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের পরামর্শক্রমে সাংগঠনিক তৎপরতা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। একই সাথে অসামাজিক এবং অসাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত না থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরােধ করা হয়। অন্যথায় সাংগঠনিক শৃংঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠনের গঠনতন্ত্র মােতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় । উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানার হেতেমখাঁ লিচুবাগান এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষের নেতৃত্বে মসজিদে হামলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ফেসবুকভিত্তিক একটি চ্যানেলে যুবলীগের কয়েকজন নেতা মসজিদে হামলা হয়েছে দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিক বিপুল পরিমাণ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা শাওনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২২০ জনকে আসামি করে শনিবার (২৫ জুন) থানায় একটি মামলা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনিরুল ইসলাম সুমন (৪০) ও মো. রেজা (৩৫) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৬ জুন, ২০২১/দ ম দ

