5:14 am |আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানের পথে

চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানের পথে

শেখ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালের জমি অবশেষে বিনামূল্যে পাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদনের পর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেওয়া এক পত্রে ভূমি হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সাল থেকে বে-টার্মিনালের জন্য পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলে জমি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৬৮ একর জমি সরকারি ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী ক্রয় করে উক্ত উন্নয়নকাজ শুরু করে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পক্ষ থেকে উক্ত জমি অনুমোদন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যবসায়ী মহল দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির ব্যাপারে সরকার থেকে অনুমোদনসহ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। বে-টার্মিনাল এলাকায় তিনটি বড় টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে করবে।জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দরকে বে-টার্মিনালের জন্য ৮০২ দশমিক ৩ একর খাসজমি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার উক্ত চিঠির একটি কপি চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছাছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ৬৮ একর জমি কেনা হয়েছিল, যা বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হয়েছে। আড়াই বছর আগে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৮০৩ একর খাস জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয়। ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেওয়া এক পত্রে বন্দরের কাছে ভূমি হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাজার কোটি মূল্যমানের ভূমি বরাদ্দ পাওয়ায় প্রকল্পের কাজে এবার গতি আসবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তাবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বে-টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবসহ ৭টি দেশ। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা হালিশহর এলাকার সাগর উপকূলে টার্মিনালটি নির্মাণের জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জমি শেষ পর্যন্ত আমরা পাচ্ছি।’ তিনি এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এ প্রকল্পে ভূমি বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা ছিল। এখন এই সমস্যাও সমাধানের পথে। আশা করছি, প্রকল্পের কাজের গতি আরো বাড়বে। কারণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের অর্থনীতি বা ব্যবসার জন্য একটা মাইলফলক হবে।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ভূমি বরাদ্দ সংক্রান্ত একটা জটিলতা ছিল। এখন সে সমস্যাও সমাধানের পথে। আশা করছি, এবার প্রকল্পের কাজে আরও বেশি গতি আসবে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৬ জুন, ২০২১/দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান