4:36 am |আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
মদন উপজেলায় মেডিকেল প্রত্যয়নপত্রের নামে হয়রানী

মদন উপজেলায় মেডিকেল প্রত্যয়নপত্রের নামে হয়রানী

প্রতিনিধি, নেত্রকোণা:
বর্তমানে নতুন নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদ করতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে দিতে হয় ডাক্তারের প্রত্যয়ন পত্র। আর এই প্রত্যয়নপত্র আনতে গেলেই দিতে হয় টাকা। ডাক্তার বয়স নির্ণয়ের কোনো রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়ায় ডাক্তার তার নিজেস্ব প্যাডে নাম ঠিকানা লিখে টাকা আদায় করে প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে মদন হাসপাতালের ডাঃ সৈয়দ সাঈম হাসান রিয়াদের বিরুদ্ধে। এমন কর্মকান্ডে এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বয়স ও জন্মস্থান প্রমাণের জন্য প্রয়োজন ইপিআই কার্ড (টিকাদান কার্ড) বা স্কুল সার্টিফিকেট অথবা কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্মসংক্রান্ত ছাড়পত্র। না হলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত জন্ম সংক্রান্ত সনদের সত্যায়িত অনুলিপি লাগে। আর এই সব কাগজপত্র অধিকাংশ লোকজনের না থাকায় তারা বয়স নির্ণয় করতে মদন উপজেলা হাসপাতালে আসেন। লোকজন প্রত্যয়নপত্র নিতে আসলে ডাক্তারগণ প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের নিজস্ব প্যাডে নাম ঠিকানা লিখে দিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করছেন। কেউ কেউ আবার হাসপাতাল প্যাডেই প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে একটি ডাক্তারী প্রত্যয়নপত্র নিচ্ছেন জন্ম নিবন্ধন করতে। পৌরসদরসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের লোকজন প্রতিদিনেই প্রত্যয়নপত্রের জন্য ডাক্তারদের চেম্বারে ঘুরাফেরা করছেন। প্রত্যয়নপত্র নিতে আসা উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়েনের কেশজানী গ্রামের ভুক্তভোগী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, আমার ও তার স্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন করতে মদন হাসপাতালের ডাঃ সৈয়দ সাঈম রিয়াদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছি। কোনো পরীক্ষা ছাড়া দুইটি প্রত্যয়নপত্র আনতে ৭০০ টাকা দিতে হয়েছে। আমার মতো আরো অনেকেই টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছে। কয়েকজন টাকা না দিতে পারায় প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই বাড়ি চলে গেছে। প্রত্যয়নপত্র দিয়ে টাকা নেয়া হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মদন হাসপাতালের ডাঃ সৈয়দ সাঈম রিয়াদ বলেন, অফিস সময়ে প্রত্যয়ন পত্র দেয়ার নিয়ম নেই। আমরা প্রাইভেট চেম্বারে ব্যক্তিগত সময়ে এসব কাজ করি। সচিবরা ডাক্তারী নিজ প্যাডে দিতে বলে কিন্তু সরকারি হাসপাতালের তো কোন নিজস্ব বা নির্দিষ্ট প্যাড নেই তাই প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, প্যাডের কিছু খরচ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, আমি মদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি প্রত্যয়নের জন্য টাকা না নিতে। হাসপাতাল থেকে প্রত্যয়ন নিলে কোনো টাকা দিতে হবে না হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে। এদিকে কয়েকজন সচিবের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এমন কোন নিয়ম নেই যে ডাক্তারের নিজের প্যাড লাগবে তাদের সাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র হলেই হবে। এছাড়াও উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ডাক্তারদের আচার-আচরণে যেন মাধুর্যতা নেই। খারাপ আচরণ করে ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হয়। ডাঃ সৈয়দ সাঈম রিয়াদ কে দেখা করতে গেলে জরুরী বিভাবে তখন দায়িত্বরত ছিলেন ডাঃ শান্তু সাহা গণমাধ্যম তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে বলেন, ডাক্তারের চেয়ারে বসা জিজ্ঞেস করছেন আমি কে, নাম জানতে চাইলেও তিনি নাম বলেন নি উল্টো তর্কবির্তক করেছেন যা বোধগম্য নয়। এই যদি হয় অবস্থা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একান্তই জরুরী বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২২ জুন, ২০২১/দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান