2:00 pm |আজ রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

টাঙ্গাইলের কাঁঠাল যাচ্ছে রাজধানী সহ সারাদেশে

টাঙ্গাইলের কাঁঠাল যাচ্ছে রাজধানী সহ সারাদেশে

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলের সখিপুরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এখন বাজারে উঠেছে সখীপুরের কাঁঠাল, তাই এ উপজেলার কাঁঠাল অর্থনীতি এখন বেশ চাঙ্গা। সুস্বাদু এ ফলের বাণিজ্যে এ জনপদ সরগরম থাকবে আগামী ৩ মাস। কাঁঠালের মৌসুমে বদলে যায় গোটা উপজেলার চিত্র। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব জায়গার কাঁঠাল যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৭শ ২০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। কাঁঠাল গাছের পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৫২ হাজার। উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ ২০ হাজার পিচ। প্রতি মৌসুমে বিক্রি হয় প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁঠাল। উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, কচুয়া, নলুয়া, বাশতৈল, তক্তারচালা, মহানন্দপুরসহ আরও একাধিক জায়গায় কাঁঠালের হাট বসে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, অটো দিয়ে কাঁঠাল নিয়ে আসেন হাটে বিক্রির জন্য। এসব হাটে প্রতিদিন হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল। ভরা মৌসুমে এ অঞ্চলের বাতাসে বিরাজ করছে কাঁঠালের সুঘ্রাণ। শুধুমাত্র কুতুবপুর বাজার থেকেই প্রতি সপ্তাহে এ মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক কাঁঠাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। তবে স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ যুগ পরেও সখীপুরে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার গড়ে ওঠেনি। ফলে, সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। চাষিদের কষ্টার্জিত কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পেতে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি। জানা যায়, কাঁঠাল এই উপজেলার কৃষকদের জন্য একটি দুর্লভ অর্থকরী ফসল। এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে বাণিজ্যের আওতায় প্রায় লক্ষাধিক কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রায় প্রত্যিটি বাড়িতেই রয়েছে কাঁঠাল গাছ। স্কুল-মাদ্রাসার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মেলে অসংখ্য কাঁঠাল গাছের। বসতবাড়ির আঙ্গিনায়ও প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল গাছ জন্মে। কাঠাঁল চাষি আব্দুস সাত্তার জানান, তার বাগানে এ বছর কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। কাঁঠালের দাম এ বছর মোটামুটি ভাল। আগামীতে কাঁঠাল চাষ আরো বেশি করে করবে বলেও জানান তিনি। কাঁঠাল ব্যবসায়ী মো. বছির উদ্দিন জানান, সখীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে কাঁঠাল ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, লক্ষ্মীপুর, , চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানা জানান, কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিনামিট এ ও সি রয়েছে। আর বীজে রয়েছে শর্করা, প্রোটিন ও চর্বি। ফল ছাড়াও কাঠালের বীজ খুবই উপাদেয় খাবার। উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো.আনিছুর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের উৎপাদন বেড়েছে। সখীপুরের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী জানান, সখীপুরে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২১ জুন, ২০২১/দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান