প্রতিনিধি, মহেশখালী:
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। জেলায় ২৩ লক্ষ হলেও শহরে ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। কিন্তু শহরের প্রধান সড়ক যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। দীর্ঘ ৭ মাস প্রধান সড়ক সংস্কারের কাজ চললে এখনো সুরাহা দেখেনি জেলাবাসী। বরং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসবে বাড়ছে ভোগান্তি। একটু বৃষ্টি হলে শুরু হয় জলাবদ্ধতা, প্রতিদিন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে জনদুর্ভোগ। শহরের সিটি কলেজ থেকে লালদিঘির পাড়ের ৩ কিলোমিটার সড়কে দূর্ভোগের শেষ নেই। বড় বড় গর্তে গাড়ি পড়ে উল্টে যায়, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। গত রবিবার ও সোমবার সরজমিনে দেখা যায়, রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। যেখানে সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলার পথ ও রুদ্ধ। বিভিন্ন গাড়ি রাস্তা দখল করে রাখছে। চারদিকে জলাবদ্ধতা। হাঁটতে গেলে পোশাকে লাগাতে হয় কাদাঁ। গাড়ি যেতে চায় না, গেলে গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া। দেখলে মনে হয় অনেক বছরের পুরনো রাস্তা। অন্যদিকে উপ-সড়কগুলো লক্কর-ঝক্ককের কারণে বাড়ছে ভোগান্তি। ইজিবাইকে কথা হয় ব্যাংকার রাকিব হাসানের (ছন্দ নাম) সাথে। তিনি বলেন, অফিসে যেতে পূর্বে ২০ মিনিট লাগলে ও এখন লাগে দু’গুণের বেশি সময় সাথে দিতে হয় বাড়তি বোনাস। এমন ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাব জানি না। কক্সবাজার পৌরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমন্বয়হীনতার কারণে এমন দূর্ভোগ বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ইজিবাইক (টমটম) চালক মোহাম্মদ নয়ন বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ি প্রায় বিকল হয়ে পড়ছে। বড় বড় গর্তে গাড়ি পড়ে আটকে যায়। ফলে যাত্রী নিয়ে অনেক কষ্ট হয়। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালালে কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। তাই গাড়ি যেতে চাই না। কক্সবাজার ব্লাড ডোনার সোসাইটির সহ-কার্যকরী সদস্য বদিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা দেখতেছি। বর্ষাকালে আরো অবস্থা খারাপ। দ্রুত সংস্কার করা হলে দুর্ভোগ কমবে। এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আপনি জিজ্ঞেস করে নেন। আমি এসব বিষয় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছি। সংগ্রহ করে ওনার সংবাদ সম্মেলন দেখার পর জানা যায়, এই কাজ তিন বছরে হওয়ার কথা থাকলে ও তিনি দেড় বছরে কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করছেন। রাস্তায় হাকার, ফলের দোকানদারদের তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেও কিন্তু কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা দেড় বছর কষ্ট করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের সুন্দর একটি রাস্তা উপহার দেই। তাহলে কক্সবাজারবাসী সুন্দর একটি সড়ক পাবে। আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনে সমন্নয়ক কলিম উল্লাহ কলিম বলেন, রাস্তা উঁচু করার ফলে আশেপাশের নিচু বাড়িগুলো ডুবে যাবে। এই কাজ দীর্ঘদিন চললে ও শেষ হয় নাই। কখন শেষ হবে তা কেউ জানে না। মনে হচ্ছে সড়কটি জনগণের মাথা ব্যথার কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ জুন, ২০২১/দ ম দ
- Advertisement -

