প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:
সম্প্রতি দেশে বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে সরকার করোনা দ্বিতীয় ডেউ মোকাবেলায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন,আর এই সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু মসজিদের নাম ব্যবহার করে বায়েজিদ থানাধীন ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড এর পূর্ব কুলগাঁওস্থ খন্দকিয়াহাট এলাকার এক অসহায় কৃষকের খতিয়ান ভুক্ত জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।তারা বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে রাতারাতি দেওয়াল তুলে জমি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ ও জমি দখল করে নেওয়ার চিত্র সরজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে হয়রানি এবং হুমকি ধমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেওয়াল তুলে ভরাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করে ভাড়াটিয়া তুলে দিয়েছে এই ভুমিদস্যু চক্রের সন্ত্রাসীরা। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বিগত২৪-১১-২০২০ তারিখে বিবাদীগনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,চট্টগ্রাম বরাবর একটা সাধারণ ডায়েরি নং-৩৬৪/২০ দায়ের করেন,অতঃপর ১৩-০৩-২০২১ তারিখে নগরীর বায়েজিদ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেও নিস্তার না পেয়ে ২১-০৩-২০২১ তারিখে মহান্য আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারায় মামলা নং-৪৭৫/২০২১ দায়ের করলে মহামান্য আদালত নালিশী ভুমিতে একটি আদেশ জারি করে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে বায়েজিদ থানার ইনচার্জ এবং তপশিলি জায়গার দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত স্ক্রেসম্যাপসহ আদালতে পূর্ণ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাটহাজারী বরাবর একটা আদেশ জারি করেন। কিন্তু রহস্যজনক বিষয় অদৃশ্য কারণে থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় সালিসি বৈঠকের পরেও ভুক্তভোগীকে নানান উপায়ে হুমকি ধমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির বিষয়ে বার বার থানাকে জানানোর পরেও কোনপ্রকারেই কাজ বন্ধ রাখেনি ভুমিদস্যু চক্রের সন্ত্রাসীরা। উক্ত বিরোধ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি বিষয় নিয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেক সাহেব এর কাছে তপশিলি জায়গার কোন প্রকার দালিলিক প্রমাণ পত্র না থাকা সত্বেও কতিপয় ব্যক্তির কাছে বিনা চুক্তিতে দশ বছরের জন্য নামমাত্র মুল্যে ভাড়ায় দেওয়ার অজুহাতে জমি দখলের এখতিয়ার মসজিদ কমিটির আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টা সুরাহা করে নিবেন বলে জানান। উল্লেখ্য বিষয় হলো মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে সাইনবোর্ড দিলেও দখলকরা জমির দেওয়াল তোলা,মাটি ভরাট এবং অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ মসজিদ কমিটির তহবিল থেকে না করে দখলকারীদের নিজস্ব খরচে করেন বলে স্বীকার করে খালেক বলেন মসজিদের নিজস্ব তহবিলে টাকা না থাকায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এই উদ্যোগ নেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে জমি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে,তিনি বলেন মহল্লার সদ্দার এবং মুসল্লীদের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধার করে একটি পরিবারকে এক হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয় যা মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে। মামলা মোকদ্দমা চলমান তফসিল ভুক্ত জায়গা মসজিদের নামে কোন প্রকার দালিলিক প্রমাণ পত্র অর্থাৎ খতিয়ান, কাবলা বা দানপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে উনি সংশ্লিষ্ট জায়গার সাপেক্ষে কোনো কাগজ বা দালিলিক প্রমাণ নেই বলে জানান।এলাকার সাধারণ লোকজনের কথায় উঠে আসে মসজিদের নামে আরএস ২৪৫৭ এবং ২৪৫৮দাগ ভুক্ত,বিএস-৪৮২ নং খতিয়ানের ৩৬৮৫/৩৬৮৭/৩৬৮৮দাগের জায়গায় কতিপয় ব্যক্তির পারিবারিক কবরস্থান নাম দিয়ে সাইনবোর্ড দিলেও কোনপ্রকার বাধা দিতে ব্যার্থ হয়েছে অথচ অসহায় একটি ব্যক্তির পৈত্রিক সূত্রে বিএস খতিয়ান ভুক্ত জায়গা জমি মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে জবরদখল করে অবকাঠামো নির্মাণ করে চলছে উল্লেখিত ভুমিদস্যু চক্রের সন্ত্রাসীরা। জোরপূর্বক জবরদখল করে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চালিয়েও থেমে থাকেনি বরং বিগত ২৯-০৪-২০২১ তারিখে একটা পরিবার মালপত্র নিয়ে দখলকৃত জমিতে নির্মানাধীন ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে তুলে দিয়ে পরিপূর্ণ দখল নিশ্চিত করেন, এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী থানার সহযোগিতা চেয়ে বায়েজিদ থানায় কল দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ওই ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলমান মামলা মোকদ্দমার বিষয় জানিয়ে তাকে অন্যত্র বাসা নিয়ে চলে যেতে বলেন।তবে ওইদিন থেকে অদ্যাবধি তিনি ঘর ছাড়েন নাই তার সাথে কথা বললে জানা যায় তিনি প্রায় দুই লক্ষেরও বেশী টাকা মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা কতিপয় ব্যক্তির কাছে দিয়েছেন যার ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েন।এই বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং মহল্লার সদ্দার আজিজুল হকও দ্বিমত পোষণ করে বলেন এই জমি দীর্ঘদিন পর্যন্ত মসজিদের সম্পত্তি বলেই জেনেছি এবং মসজিদের উন্নয়নের জন্য কমিটির সকলের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে যাবতীয় কর্যক্রম সম্পাদনের জন্য সাধারণ সম্পাদক খালেক দায়িত্ব নিয়ে ভাড়াটিয়া ঠিক করেন। উল্লেখ্য বিষয় হলো মসজিদের নিজস্ব তহবিলের খরচে নাকি ভাড়াটিয়া ব্যক্তির একক খরচে যাবতীয় কাজ করা হয় সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তাছাড়াও আদালতে মামলা দায়েরকারী নূরুল আলম এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি আজিজুল হক পরস্পরের সম্পর্কে আপন ভাই হওয়া স্বত্তেও কোনপ্রকার দালিলিক প্রমাণ পত্র অর্থাৎ খতিয়ান,কাবলা বা দানপত্র ছাড়াই মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে জবরদখল করে অবকাঠামো নির্মাণ করে ভাড়াটিয়া তুলে দখলের এই ভুমিদস্যু প্রক্রিয়া অনেকটা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের হীন উদ্দেশ্যের অপচেষ্টা মাত্র। মসজিদ কমিটির সদস্য পরিচয় নেই জনৈক আব্দুল মালেক কখনো নিজেকে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য আবার কখনো ধর্মীয় সংঘটনের সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত তিনি ভুক্তভোগী নুরুল আলমকে জমির আশেপাশে এলে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দিবেন বলে হুমকি দিয়ে অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আবদুল মালেকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কল দিলে তিনি সাংবাদিকের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং দেখে নিবেন বলে হুমকি দিয়ে কল কেটে দেন। এছাড়াও মসজিদের সাধারণ সম্পাদক খালেক,সভাপতি আজিজুল হক,সহ সভাপতি এনাম এবং জনৈক মালেকের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন,তারা নানান উপায়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে স্বার্থ হাসিলের হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভুক্তভোগী নুরুল আলম বলেন আমি রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় অভিযোগ করেছি অতঃপর মহামান্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি, আদালতের রায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে আদালতে সিদ্ধান্ত যা হবে ইনশাআল্লাহ তা-ই মেনে নিতে বাধ্য। এই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে মসজিদ কমিটির নানান রকম অনিয়মের অভিযোগ তার মধ্যে মসজিদের নিজস্ব ভূমি নিয়ে দালিলিক জটিলতা,সামাজিক কবরস্থানে কতিপয় ব্যক্তির পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে দখলি করণ, যাবতীয় আয়,ব্যয়ের হিসাব নিয়েও রয়েছে অদৃশ্য রহস্য,চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কতৃক পরিচালিত মক্তব বন্ধ থাকা সত্বেও মক্তবের হুজুরের নামে বেতন উত্তোলন করা, মসজিদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থাকা সত্বেও কতিপয় ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে ব্যক্তি উদ্যোগে অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা,জামে মসজিদ হওয়া সত্ত্বেও ওয়াক্বফ কৃত সম্পত্তির বিষয় হালনাগাদ সহ যাবতীয় বিষয় যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সুষ্ঠু সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে সাধারণ মানুষ আশাবাদী।
আলোকিত প্রতিদিন/২৯ মে, ২০২১/ দ ম দ

