3:06 am |আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি!

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি!

প্রতিনিধি, কক্সবাজার:
কক্সবাজার জেলার  ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান পুরো জেলাতে ২৫৭০টি  ঘর বাড়ির ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।  কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূল  এলাকায় বাঁধ, রাস্তা, ব্রীজ-কালভার্টসহ অবকাঠামোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষি এবং চিংড়ি ঘেরসহ মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে কমপক্ষে ৩ জনের। ৪টি উপজেলার  প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঘূর্ণিঘড় আঘাত হানার আগের দিন থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। এই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের  তান্ডবের চিত্রটা ছিল ভিন্ন ধরণের। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণত ঘূর্ণিঝড় হয় না, এসব এলাকায় গুলোতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের  তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহেশখালি পানের বরজ থেকে শুরু মৌসুমী ফল এবং ধান এবং সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে।  কুতুবদিয়া থেকে শুরু করে মহেশখালী  পর্যন্ত  মানুষের ঘূর্ণিঝড় নিয়ে ধারণা খুবই কম। সেখানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রও কম। এবারও ঘূর্নিঝড় নিয়ে কোন আশংকা বা প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের  সারারাতের তাণ্ডব এই অঞ্চলের মানুষকে আতঙ্কিত করে। মহেশখালীর এর  ৬৫-বছর বয়স্ক একজন সমাজকর্মী এমদাদুল হক বলেছেন, এমন ঝড়ের সাথে তারা পরিচিত ছিলেন না। “এরকম ঝড় কোনদিন দেখি নাই। কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে বা বিভিন্ন সময় নিম্নচাপের সাথে ঝড় হয়েছে। কিন্তু এরকম ব্যাপক ঝড় কখনও হয়নি। ফলে সেজন্য কোন প্রস্তুতিও আমাদের ছিল না। ক্ষয়ক্ষতি মনে করেন, জমিতে ধান পানির নিচে গেছে। পাটের আগা ভেঙে গেছে। ঘরবাড়ি এবং গাছ অনেক ভেঙে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।” ঐ অঞ্চলের একরের পর একর জমিতে পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানচাষীরা সাধারণত বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পান চাষ করে থাকেন। মহেশখালীর  একটি গ্রামের হারুনর রশিদ শাওন বলেছেন, তার চাষ করা দুই বিঘা জমির পানের বরজ পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়কে। উত্তাল সাগরে  স্রোতের কারণে সড়কের অনেক অংশ ভেঙে গেছে বিলীন হয়ে গেছে  সড়ক রক্ষার জিও ব্যাক।  এসব এলাকা থেকে অনেকে বলেছেন, বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা এবং প্রস্তুতি না থাকায় এর তাণ্ডব দেখে তারা হতবিহবল হয়ে পড়েন।  একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হোসনে আরা বলেছেন, উপকূলের বাইরের ঘূর্ণিঝড় নিয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় এসব জায়গায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। এই নন কোস্টাল বেল্টে মানুষের প্রস্তুতি থাকে না। সেজন্য এই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে মানুষ হতবিহবল হয়ে যায় এবং ক্ষতিও হয়েছে অনেক বেশি সেন্টমাটিন ও মহেশখালী সহ কুতুবদিয়া।  এদিকে জেলা প্রশাসক নীতিনির্ধারকদের অনেকে বলেছেন, এই ঘূর্ণিঝড়ে  যতটা ক্ষতি আশংকা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি। সেটা তাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের দুর্যোগের মাঝে ক্ষতি যা হয়েছে, সেটাও কম নয় বলে তারা মনে করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/২৮ মে, ২০২১/ দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান