প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি: কাপ্তাই উপজেলার সর্বত্র হিজরাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বিশেষ করে ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. আবাসিক এরিয়ার সিনেমাহল বাজার,বারোঘোনিয়া এলাকা, কলাবাগান আবাসিক এলাকা, কয়লার ডিপো এলাকায়, কাপ্তাই নতুনবাজার এলাকা, বড়ইছড়ি বাজার সহ বসতবাড়িতে ইদানিং হিজরাদের চাঁদাবাজী এবং উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। কেপিএম এলাকার বাসিন্দা মো. ইসমাইল, রাবিয়া আক্তার, টিটন দাশ, জানান, রাঙ্গুনিয়া লিচুবাগান ফেরীঘাট এলাকায় বসবাসরত জন হিজরারা আগে প্রতি সপ্তাহে ১ বার এসে দোকান থেকে যা পেত নিয়ে চলে যেত। কিন্তু বর্তমানে কেপিএম লি. আবাসিক এলাকার বিভিন্ন কলোনীতে মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে চাল এবং টাকার জন্য জোর- জবরদস্তি করছে। চাল এবং টাকার পরিমান কম হলে তারা আরো দাবি করে, এইসময় তাদের দাবি মিটাতে না পারলে মানুষজনের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে তারা এমনকি এই নিয়ে স্থানীয়দের সাথে ঝগড়া বিবাদ সংঘটিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান।
সর্বশেষ গত ২০ মে সন্ধ্যা ৭ টায় কেপিএম কলবাগান মোবাইল চুরির ঘটনায় ২ হিজরা আটক করে এলাকাবাসী। পরবর্তীতে কাপ্তাই থানার ওসি ( তদন্ত) মো. আক্তার হোসেন মোবাইল পুলিশ টিম নিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদেরকে হেফাজত করে নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেন। এদিকে কাপ্তাই নতুনবাজার বাজার এলাকার দোকানদার তরুন দে এবং কাদের জানান, ইদানিং হিজরারা অতিরিক্ত টাকা দাবি করে থাকে, না পেলে গালাগালি ও অশালীন অঙভঙ্গি করে। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, কাপ্তাই থানার ওসি মো. নাসির উদ্দীন জানান, হিজরারা তৃতীয় লিঙ্গের। সরকার তাদের সহনশীল দৃষ্টিকোন থেকে দেখে, আমরাও তাদেরকে পরামর্শ দিই, যেন তারা মানুষের সাথে ভালো আচরণ করে এবং এই বিষয়ে তারা যেন সমাজ সেবা বিভাগে যোগাযোগ করে। হিজরাদের একজন জানান, তৃতীয় লিঙ্গ বলে সমাজে আমাদের স্হান নেই, চাকরি নেই, আমরাতো মানুষ, আমাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সমর্থবানরা না দিলে আমরা কিভাবে চলবো। আমরা কাউকে জোড় করে টাকা পয়সা নেই না।
আলোকিত প্রতিদিন / সা হা
- Advertisement -

