আজ শুক্রবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যায় ৮৩ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করল ২ বন্ধু

আরো খবর

প্রতিনিধি, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ৮৩ বছরের বৃদ্ধাকে নেশা করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে প্রতিবেশী নাতী লম্পট রিংকু ওরফে সামিম বেপারী ও তার বন্ধু হাসান মাদবর। বুধবার রাতে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের বড় শিধলকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযো করে বৃদ্ধা নিজেই। অভিযুক্তরা হলেন, আরমান বেপারীর ছেলে রিংকু ওরফে সামিম বেপারী (২৭) ও শহিদুল্লাহ মাদবরের ছেলে হাসান মাদবর (২৬)। তারা উভয় শিধলকুড়া ইউনিয়নের বড় শিধলকুড়া গ্রামের বাসিন্দা।  পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ৩ টার দিকে বৃদ্ধা নারীর ঘর থেকে আত্ম চিৎকার শুনে পাশের ঘরের লোক জন ছুটি আসে। ঘরে ঢুকার চেষ্টা করলে ভিতর থেকে আটকানো কারণে ঢুকতে পারা যায় নি স্থানীয়রা। সামিম ও হাসান পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। ধরার চেষ্টা করলে তাদের ধরা যায় নি। ধর্ষণের শিকার নারী বলেন, জীবনে বড় পাপ করেছি। না হলে আজ এই দিন টা দেখতে হত না। স্বামী মারা যায় অনেক বছর আগে। ঘরে নারী একাই থাকি। ৩ মেয়ে ই থাকেন শ্বশুর বাড়ি। প্রতিদিনের মত রাতে শুয়ে পড়েন। অসুস্থ ছিলাম। রাতে মাঝে মধ্যে ই সামিম ঘুমাতে আসতো। কালও পুলিশ আসছে ওকে ধরে নিতে এই কথা বলায় সরল মনে খুলে দেয় দরজা। তারা ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে পাশের খাটে গিয়ে শোন। আমি ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ তারা আমার ওপর আক্রমণ করে। মুখ চেপে রাখায় আমি চিৎকার করলেও বের হয় নি। হঠাৎ মুখ ছুটে যাওয়ায় জোরে চিৎকার। পাশের ঘরের রিনা, ওর জামাই সহ আরোও অনেকে ছুটে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী রিনা বেগম বলেন, রাতে প্রায় ৩ টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। তখন আমি শুনতে পাই পাশের ঘরের নারী আস্তে আস্তে চিৎকার করছে। আমি মনে করেছিলাম অসুস্থ হয়ে এমন টা করছে। অনেক সময় করার পর তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেলে হঠাৎ বলে ওঠে তোরা কে কোথায় আছত আমারে বাচাঁ সামিম আর হাসান আমাকে মেরে ফেলতাছে। আমি দরজা ধাক্কা দিলে বন্ধ থাকায় খোলে না। পরে সে বলে ওঠে ওরা পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। দৌড়ে পিছন গেলে দেখি দুই জন দৌড়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্ধকার কে সেটা চিনতে পারি নি। ঘরে ঢুকে তাকে অজ্ঞান ও বিবস্র অবস্থায় খাটে পড়ে থাকতে দেখি। সামিমের দাদা সামসুল ইসলাম (৭৮) বলেন, আমার নাতি নেশা পানি করে কিন্তু কোন মেয়েলী সমস্যা নেই। এলাকার মানুষ আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ডামুড্যা থানা অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) প্রবিন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নারী কে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন / ২৫ মে, ২০২১/ দ ম দ
- Advertisement -
- Advertisement -