প্রতিনিধি, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঈদগাঁও মাইজপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মনজুর আলম (৫৪) নামে একজন প্রবাসীকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দ্বারা নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ২১ মে (শুক্রবার) সকালে ঘটনাটি ঘটলেও বিকালে একজন প্রত্যক্ষদর্শী মারধরের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসলে ঈদগাঁও থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে রাতে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া স্ত্রীসহ ৮ জনকে আটক করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি দালানের সামনে সাদা শার্ট ও হলুদ টি-শার্ট পড়া দু’জন ব্যক্তি মাটিতে শুয়ে থাকা মনজুর আলমকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন। অন্যদিকে কালো টি-শার্ট পড়া এক ব্যক্তি তাদের নিষেধ করলে ও তারা বারবার মারধর করতে এগিয়ে আসেন। ভিডিও ফুটেজে কয়েকজন মহিলাকে ও দেখা যায়। যারা অকাট্য ভাষায় গালিগালাজ করতেছেন। অন্যদিকে এই দালানের ছাদে একজন ৮/১০ বছরের একজন মেয়েকে দেখা যায়, যে ঘটনাটি দেখতেছেন। অনেকে বলেছেন এটি মনজুর আলমের মেয়ে। মেয়ের সামনে পিতাকে নির্মমভাবে মারধর একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী মনজুর আলম (৪৫) দীর্ঘদিন সৌদিতে থাকতেন। প্রবাসে থাকাকালীন সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তার জমি কিনার কথা বলে টাকা নিয়ে নিজের নামে তার পিতার বাড়ি পার্শ্বে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবনও। করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে আসার পর আর বিদেশ যাওয়া হয়নি মনজুর আলমের। এরই মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। স্বামীর সাথে দুরুত্ব বাড়াতে থাকে স্ত্রী রুনা আক্তার। এক পর্যায়ে ২১ মে (শুক্রবার) তার বাবা, মা, ভাই বোনসহ সবাই মিলে দিন দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মনজুর আলমকে নির্মমভাবে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাওয়ার পথে ২২ মে (শনিবার) বেলা ১২ টার দিকে মনজুর আলম মৃত্যু বরণ করেন। নিহত মনজুর আলম (৪৫) কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী নতুন মাহাল গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে কথা ঈদগাঁও থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ৯ জন আসামী থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। একজন পালাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ওনাদের আদালতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। হত্যা মামলার যে ধারা এটা যোগ করার পর আদালত থেকে হত্যা মামলায় পরিণত হবে। বাকিটা আদালতে প্রমাণ হবে।
আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে, ২০২১/ দ ম দ

