প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:
প্রচন্ড তাপদাহে টাঙ্গাইলে তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। মানুষ শরীরে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও সে দিকে তাকাচ্ছেন না ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষগুলো। শহরের বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি। জানা গেছে, তাল গাছ এশিয়া ও আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীন ফল গাছ। ওই গাছের ফলকে তাল বলা হয়। গ্রামাঞ্চলে পানি তাল হিসেবে পরিচিত। তাল এরিকাসি পরিবারের বরাসুস গণের একটি সস্পূরক উদ্ভিদ। তালের ফল এবং বীজ বাঙালির খাদ্য। তালের ফলের ঘন নির্যাস থেকে তাল ফুলুরি তৈরি হয়। তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা তালশাঁস নামে। তালে রয়েছে প্রচন্ড ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক পটাশিয়াল, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। প্রচন্ড তাপদাহে ক্লান্ত মানুষ তালের শাঁসের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে মানুষ তালের শাঁস খাচ্ছেন। তবে এ বছর প্রচন্ড তাপদাহে তালের শাঁসের কদর গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। তালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ব্যবসায়ীরা গ্রামগঞ্জ থেকে তাল সংগ্রহ করে সড়কের পাশে ও অলিগলিতে বিক্রি করছে। মানুষ অহরহ ফরমালিন মুক্ত এ ফল খেয়ে খাচ্ছেন। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ জলীয় অংশ, ক্যালরি ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালমিয়ান ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম রয়েছে বলে জানা যায়। টাঙ্গাইল শহরের জেলাসদর রোডে তালশাঁস বিক্রি করছেন কালিহাতী উপজেলার সিঙ্গুরিয়া গ্রামের আরমান আলী । বছরের অন্যান্য সময় ইটভাটায় কাজ করলেও এসময়টাতে তিনি আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে তালের শাঁস বিক্রি করে থাকেন। তিনি জানান, একটি তাল থেকে দু’টি বা তিনটি শাঁস থাকে। প্রতি পিস এখন ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হয়। নাটোর জেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসব কচি তাল কিনে আনেন তিনি। তালের সংখ্যা ভেদে একটি গাছের দাম পড়ে একহাজার’ থেকে ২’হাজার টাকা। প্রতিদিন দেড় হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করেন তিনি। এতে পাঁচ-সাতশ’ টাকা লাভ থাকে, যা দিয়ে আরমান ও তার সহযোগীর সংসার মোটামুটি ভালোভাবেই চলে যায়। টাঙ্গাইল পৌরসভার পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকার তালের শাঁস বিক্রেতা রমজান আলী জানান, কেউ একটু তরল, আবার কেউ একটু শক্ত শাঁস পছন্দ করেন। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কাঁদি (ছড়া) তাল বিক্রি হয়। তালের মৌসুম এলে এ এলাকার তিনিই শুধু তাল বিক্রি করেন। যদিও এতে অনেক শ্রম দিতে হয়। গাছ থেকে তালের কাঁদি কেটে তা আবার নামানো, বাজারে বয়ে আনা, তারপর কাটাকাটি করে তবেই ক্রেতার হাতে দিতে হয়। কষ্ট হলেও বেশ লাভ হয়। টাঙ্গাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আহসানুল বাশার বলেন, এখন বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন রাস্তার ধারে ও খালেরপাড়ে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। কৃষি অফিস ও বিভিন্ন সংগঠনের আলাদাভাবে তালের গাছ রোপণ করে আসছে। এ বছর তালের ফলনটাও ভালো হয়েছে। এছাড়া এবার নতুন নতুন গাছে তাল ধরেছে। এসব গাছের তাল পাকানোর জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে বীজ করা যায়।
আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে, ২০২১/ দ ম দ

