আজ সোমবার, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারের অর্পিত সম্পত্তি দখলে মরিয়া নাদের বাহিনী প্রধান

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রপতির ভাস্তি জামাই পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি কাজে লিপ্ত রাজধানী আজিমপুরের গুন্ডা বাহিনীর সর্দার নামে পরিচিত সৈয়দ ইকবাল নাদের প্রিন্স। যাকে এলাকার মানুষ ছোট ও বড় থেকে প্রশাসন পর্যন্ত সবাই চিনে কিশোরগঞ্জের সন্তান বর্তমান রাষ্ট্রপ্রতি এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ এর ভাস্তি জামাই হিসেবে। এলাকার স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ বেশকিছু লোক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন নিজের অপকর্ম ঢাকাতে ইকবাল নাদের কখনো টুঙ্গিপাড়া শেখ পরিবারের ভাস্তি জামাই আবার কখনো রাষ্ট্রপতির ভাস্তি জামাই পরিচয় দেন। মুলত সে দুই পরিবারের কারো কেউ নয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ইকবাল নাদের প্রিন্সের অপকর্ম। ১৯৪৭ সনে ভারত বিভাগের সময় কালী দয়াল ঘোষ ও তাহার স্ত্রী অবলা সুন্দরী ঘোষ তাদের ধর্মীয় জয়কালী বিগ্রহসহ ভারতে নিয়ে যায় এবং সেদেশের বাসিন্দা হয়ে ভারতে বসবাস শুরু করেন ১৯৪৯ সালে মুল মালিকের অবর্তমানে ও অসাক্ষাতে কিছু লোক ২৫২৫ নং একটি ভূয়া দলিল করেন। দলিল দাতা বা গ্রহিতা মুল মালিক বা তাহার স্ত্রীর কেউ নন। তৎকালীন সরকারি বিধান মতে বলা হয় কালী দয়াল ঘোষ ও তাহার স্ত্রী ১৯৬৫ সনের পূর্বে নালিশী সম্পত্তি ত্যাগ করিয়া ভারতে গিয়ে তথাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয় সেহেতু তৎকালীন পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইনের বিধান মতে তাহাদের ব্যবহারিত সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপর ন্যাস্ত হয়।এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি নাসির ফাতেমা (স্ত্রীর) নামে ভুয়া দলিল সম্পাদন করেন প্রিন্স এর দাদা সাবেক ডেপুটি মেজিট্রেট সৈয়দ গোলাম মাইনুদ্দিন। দলিল টি সরকারি দপ্তরের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবলোকন হওয়ার পর রাষ্ট্র পক্ষ বাদী হয়ে ১২/০৭/১৯৭৬ সনে ১৩২১ নং স্মারক ৮৫ নং কেইস মুলে একটি আদেশ পত্র পাঠান প্রকৃত মালিক কালী দয়াল ঘোষ ও তাহার স্ত্রী অবলা সুন্দরী ঘোষ এর বরাবরে যা এখনো সরকারের সাথে নিষ্পত্তি হয়নি। ভুয়া দলিলের ইস্যু ধরে প্রিন্স ও তার বাবা পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে স্বাধীন পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা আদায়ে করে আসছিলো নিয়মিত। মৃত নাসির ফাতেমা গং তথা সৈয়দ ইকবাল নাদের প্রিন্সের দাদীর নামে ভুয়া দলিলের মুল কাহিনী এলাকায় জানাজানি হলে তাদের দাবি করা জায়গায় অবস্থানরত ব্যবসায়ীরা মাসিক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৩০/০৩/২০২১ তারিখে আজিমপুরস্থ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী নামে একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অংশ বিশেষ লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়রী করেন ইকবাল নাদের প্রিন্স। ব্যবসায়ীরা বলেন আমরা এতোদিন একটা ভুলের মধ্যেই ছিলাম তাই তাদেরকে মাসিক হারে চাঁদা দিয়ে এসেছি, এখন তো সবকিছু জানি, মাসিক ভাড়া যদি দিতে হয় সরকারের ভান্ডারে জমা দিবো তারপরও কোন সন্ত্রাসী বা ভুয়া দখলকারীদের দিবোনা। মৃত নাসির ফাতেমার স্বামী মৃত সৈয়দ গোলাম মাইনুদ্দিন, তার ছেলে সৈয়দ মঈনউদ্দীন নাদের, তার ছেলে সৈয়দ ইকবাল নাদের প্রিন্স, অর্থাৎ তিন প্রজন্মের পরেও যাদের কোন মালিকানা নেই সেই পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে এলাকার ব্যবসায়ীদের উপর বেশ কয়েকবার হামলা করে দোকানপাট ভাংচুর করে। এতে ক্ষান্ত হয়নি নাদের ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী’কে গুম, হত্যা অথবা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ইকবাল নাদের প্রিন্স একজন সন্ত্রাসী যে কোন সময় এলাকায় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারে প্রশাসনের উচিৎ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর জৈষ্ঠ প্রতিবেদকের তথ্য মতে জানা যায় তিনি হকি ফেডারেশনের সাবেক বহিষ্কার হওয়া একজন খেলোয়াড়, ভুলভাল তথ্য, নেশাগ্রস্থ ও দলের সতীর্থদের সাথে একাধিক বার মারামারি করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ফেডারেশন থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। রাষ্ট্রপ্রতি পুত্র ও বর্তমান কিশোরগঞ্জের সাংসদের সাথে কথা হলে তিনি জানান সৈয়দ ইকবাল নাদের প্রিন্স নামে আমাদের কোন আত্মীয় নেই। আরোও অনুসন্ধানে জানা যায় ২০১৭ সালের এক মামলায় তার বিরুদ্ধে মহানগর আদালত গত ২৪/০৪/২০২১ ইং তারিখে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। তবে আদালতের রায়ের পর থেকে তিনি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাসা পরিবর্তন করে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে বিশেষ সুত্রে জানা যায়। ঢাকা সিটি করপোরেশনের লালবাগ থানার অধীনস্থ হওয়ায় পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আইন সবার জন্য সমান রাষ্ট্রপতির ভাস্তি জামাই পরিচয় দিয়ে তো পার পাওয়া যাবেনা, বরংচ মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ’কে বিভ্রান্তি করার জন্য প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আরোও কঠোর অবস্থানে যাবে, কয়দিন পালিয়ে থাকতে পারবে এমন মন্তব্য করেন। সৈয়দ ইকবাল নাদের প্রিন্সের ০১৯৩৮০০০৩৩৩ নাম্বারে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও ফোন রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন / ০৫ মে, ২০২১ / দ ম দ

- Advertisement -
- Advertisement -