প্রতিনিধি,মুন্সীগঞ্জ:
কৃষিজমি সুরক্ষায় আইনে আবাদি কৃষিজমি বিনষ্ট করলে জেল-জরিমানার বিধান আছে। জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে চলছে ফসলী জমিতে পুকর খননের মহোৎসব, রাতের আধারে অথবা দিনের আলোয় সিরাজদিখান উপজেলা জুড়ে চলছে আবাদে ফসলী জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনকে মেনেজ করে মহোৎসবে খনন করা হচ্ছে অবৈধ পুকুর। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না এমন সরকারি নির্দেশনা ও হাই কোর্টের রিট থাকলেও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিলে অবৈধ পুকুর খনন করে ছয়লাপ করেছে অসাধু পুকুর ব্যবসয়ীরা। এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ীরা অসহায় গরীব কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ও লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে। আর কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ী। কিন্তু প্রশাসন নিরব থাকায় দিনের আলোয় চলছে অবাধে পুকুর খনন। আর এই পুকুর খননের মাটি পরিবহন করতে পাকা রাস্তা হচ্ছে নষ্ট। কমে যাচ্ছে ফসলের আবাদি জমি। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। কমে যাচ্ছে এ এলাকার অঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল আলু আবাদের জমি। এই পুকুর খনন কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ।
এ দিকে অজানা কারণে প্রশাসন রয়েছন নিরব। মাঝেমাঝে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দুই এক জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালদের অভিযান পরিচালিত হলেও তা আবার থেমে যায় দিন না যেতেই এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের। সরেজমিনে দেখা যায় , উপজেলার শেখরনগর, চিত্রকোট, রাজানগর, কেয়াইন, বাসাইল, বালুচর, লতব্দী, জৈনসার, কোলা, রশুনিয়া, ইছাপুরা, মধ্যপাড়া, মালখানগর, বয়রাগাদী ইউনিয়নের সব বিলেই রমরমা চলছে অপরিকল্পিতভাবে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খনন। আবার কোথাও কোথাও ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে, এতে একদিকে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বিনাশ হচ্ছে ফসলি জমি। এছাড়া উঁচু জমি গর্তে পরিণত হওয়ায় সেচ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে অভিযোগ কৃষকের।
উপজেলার লতদ্বী ইউনিয়নের কৃষক তুহিন সরকার জানান, খিদিরপুর গ্রামের, ফসলি জমির মাটি কেটে গ্রামটি নদী বানিয়ে দিচ্ছি, , এই মহামারিতে সকল কিছু বন্ধ থাকলেও মাটিকাটা বন্ধ নেই। যে হারে পুকুর খনন হচ্ছে তাতে ফসলি মাঠ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কৃষক মাহমুদ হোসেন মোশারফ বলেন থানার সব এলাকাতে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বেচতাছে গত কয়েক বছর ধরে, এভাবে কাটতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর ফসলি জমি শেষ হইয়া যাইব। কংশপুরা, লতব্দী,খিদিরপুর, রামকৃষ্ণদী এলাকা একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলছে মাটি কাটার। এছাড়াও কৃষকরা পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে একাধিক বার মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কোনো সুরাহা মিলছে না।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যান কুমার সরকার দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনকে জানান বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে কেও কোন অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নিব। পুকুর খননের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনকে জানান, লকডাউনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কতিপয় অসাধু মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলী জমিতে পুকুর খনন করেছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েবদের) বলেছি তদন্ত করে আমাকে জানতে। আমি নিজে সরেজমিনে যেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।এ ছাড়াও গত ২০ এপ্রিল দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে আমরা থানায় মাটি কাটার ব্যাপারে মামলা করেছি, আজ সোমবার উপজেলার মীর্জাকান্দী থেকে তন্ময় সরকার নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন / ২৬ এপ্রিল, ২০২১ / দ ম দ

