গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ স্বামীর নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতে চলে যান গাইবান্ধার ফেলানী। ভারতে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কারণে জায়গা হয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তিন বছর কলকাতায় কারাভোগের পর একটি মানবাধিকার সংগঠন জেল থেকে মুক্ত করে ফেলানীকে আশ্রয় দেয়। হারিয়ে যাওয়ার ৮ বছর পর ভারত থেকে বাড়ীতে ফিরে আসা ফেলানীকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমালিবাড়ী গ্রামে ফেলানীর বাড়ীতে। সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমালিবাড়ী গ্রামের সৈয়দ আলীর মেয়ে সাজেদা আক্তার ফেলানীকে বাল্যকালেই বসতে হয় বিযের পিঁড়িতে। একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ফয়জার হোসেনের সঙ্গে সংসার বাঁধার পর ফয়জার হোসেন তার পরিবার পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চলে যান। সেখানে ফয়জার হোসেন দ্বিতীয় বিযে করে। ফলে ফেলানী ফেলনা হয়ে যায় ফয়জারের সংসারে। তার জীবনে নেমে আসে নির্যাতন আর অবহেলা। একপর্যায়ে স্বামী ফয়জার ফেলানীকে তার বাবার বাড়ীতে রেখে যান। এতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে ফেলানী। ২০১৩ সালে বাবার বাড়ী স্বামীর কাছে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে হারিয়ে ফেলানী। পরিবারের লোকজন অনেক খোজাখুজি করে কোন সন্ধান না পাওয়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে পরিবারের লোকজন জানতে পারে ফেলানী ভারতে আছে। গত ৩০ জানুয়ারী ভারতের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে দীর্ঘ ৮ বছর পর ফেলানী তার নিজ গাইবান্ধার খোর্দ্দমালিবাড়ী গ্রামে ফিরে আসে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ /এম.জে

