জাকারিয়া নূরী : আজ ১ জানুয়ারি। সৈয়দ রনো’র জন্মদিন। তিনি দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’ ও সাপ্তাহিক ‘অন্যধারা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। এছাড়াও তিনি অন্যধারা পাবলিকেশন্স -এর সত্তাধিকারী এবং অন্যধারা সাহিত্য সংসদ -এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি একাধারে কবি ও কথাসাহিত্যিক। বাংলা কবিতায় তার অবদান অনবদ্য।
নতুন বছরের আগমন ক্ষণ ১ জানুয়ারি ২০২১ এর শুরু রাত ১২ টা ০১ মিনিট থেকেই সৈয়দ রনোকে ফোনে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জারেসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এজন্য তিনি (সৈয়দ রনো) সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং আজ দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৯টা পর্যন্ত আলোকিত প্রতিদিন কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কোরনাকালিন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্ত পরিসরে জন্মদিনের আয়োজন করা হয়েছে। নিচে সৈয়দ রনো’র বায়োগ্রাফী দেওয়া হলো।
সৈয়দ রনো’র লেখক নাম- সৈয়দ রনো, পুরোনাম সৈয়দ নুরুল হুদা রনো। মানিকগঞ্জ জেলাধীন ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া গ্রামে ১ জানুয়ারি ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- আলহাজ সৈয়দ আব্দুল লতিফ, হাইস্কুল শিক্ষক এবং মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী, মাতা- আলেয়ার নাহার হাওয়া। তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাল্যকাল থেকেই তিনি সাহিত্য অনুরাগী। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় প্রথম কবিতা প্রকাশ হয়, মানিকগঞ্জের স্থানীয় ‘আলোর বাণী’ পত্রিকায়। এরপর থেকে নিয়মিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার কবিতা, ছড়া, পদ্য, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমন কাহিনী, নিবন্ধ, রম্যরচনা প্রকাশ হতে থাকে। বাংলায় এম.এ. পাস করে প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে এল.এল.বি পাশসহ বি.এড পাশ করেন এবং আরবি শিক্ষার আগ্রহে আলিম পাশ করেছেন। তিনি ২০১৩ সালে লোকসংস্কৃতিতে পিএইডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মঞ্চ নাটক লিখে এবং অভিনয় করে নব্বই দশকে সুনাম এবং সুখ্যাতি কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বর্তমানে যার নাম পরিবর্তন হয়ে অন্যধারা সাহিত্য সংসদ হয়েছে, এই সংগঠনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা। উনিশ বছর যাবত সাপ্তাহিক অন্যধারা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যেই ৬০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত (ক) কাব্যগ্রন্থ: ১. চেতনায় স্মৃতি স্তম্ভ ২. পিরিতী পরম নিধি ৩. কষ্ট কাহন ৪. নির্বাচিত কবিতা ৫. পদ্য ছন্দ আধুনিক ডটকম ৬. আধুনিক ছড়া উপমায় গড়া ৭. ছবি কথা বলে ৮. কারফিউ ঘেরা পূর্ণিমা রাত ৯. ফেরারী সময় ১০. অলিক ভাবনার খুনসুটি দিন ১১. ঘাস ফড়িং ১২. শিশিরের সূর্যালাপ ১৩. ছেঁড়া খোঁড়া মেঘ ১৪. ভাবের পদাবলী ১৫. বৃষ্টিমাখা রোদ (খ) গল্প গ্রন্থ : ১. কল্পলোকের গোলক ধাঁধা ২. কল্পিত গহনে ৩. জীবন বোধের নামতা (গ) উপন্যাস : ১. এক অঙ্গে শতরূপ ২. হৃদয় মাঝে তুমি ৩. বিনে সুতার টানে ৪.অলৌকিক শক্তির সন্ধানে ৫. এক দিকের ভালোবাসা ৬. প্রথম দেখা ৭. চাঁদনি রাত ৮. পাঁজর (ঘ) রহস্য উপন্যাস : ১. শখের গোয়েন্দা ২. রহস্যের সন্ধানে ৩. মৃত্যুফাঁদ ৪. ভয়ংকর রাত্রি ৫. রাতের শশ্মান ৬. রাতের বেলা ভূতের খেলা ৭. কবর থেকে বলছি (ঙ) নাটক : ১. শকুনের থাবা ২. ৭১’-এরপর ৩. কাবা কাবা ৪. ময়লা কাগজ (চ) ছড়ার বই : ১. মর্নিং বেল (ছ) সম্পাদিত গ্রন্থ : ১. মানিকগঞ্জের কবি ও কবিতা (জ) রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ : ১. এক এগারোর প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২. ছবি কথা বলে (প্রথম খন্ড) ৩. ছবি কথা বলে (দ্বিতীয় খন্ড) (ঞ) গবেষণামূলক গ্রন্থ : ১. লোকসংস্কৃতিতে ধূয়াগান ২. চেতনায় সৈয়দ রনো। সৈয়দ রনো শুধু নাটক রচনা করেই ক্ষান্ত হননি মঞ্চায়নের ক্ষেত্রেও ত্রিশের অধিক নাটকে নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
কবিতা আবৃত্তিতে তার সুরেলা কণ্ঠ কাব্যিক চেতনায় সমাদৃত হয়েছে। সলপ্ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। স্বত্বধিকারী – ফ্রেন্ডস ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যধারা পাবলিকেশন্স। নিজ এলাকায় শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন হিজুলিয়া ভি আর এন হাইস্কুল যার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে বালিয়াটী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির সদস্য। তার অপ্রকাশিত পা-ুলিপির সংখ্যাও অনেক। বিভিন্ন ধরনের লেখায় শব্দের গাঁথুনি স্পষ্ট লক্ষ্যণীয়। মিথকে লোকজ শব্দের মিশ্রণে চমৎকার ব্যবহার করে কবিতা এবং ছড়াকে করে তোলেন উপজীব্য এবং পাঠক নন্দিত। বাংলা অভিধানে সংরক্ষিত শব্দ ছাড়াও লোকজ শব্দের সফল প্রয়োগ তার কাব্যিক পংক্তিমালাকে ভিন্ন স্বাদে পাঠকপ্রিয় করে তুলে। তার কাব্য ভাবনার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ছন্দের বিভিন্ন মাত্রা তাই রনো’কে ‘ছান্দিক কবি’ বলা হয়ে থাকলেও কবি আল মাহমুদ তাকে তারুণ্যের কবি বলে অভিহিত করেছেন। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা সকল অসঙ্গতির ক্ষুরধার প্রতিবাদ করায় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ¬সৈয়দ রনোকে দুর্দান্ত দ্রোহের কবি বলেছেন। বাস্তবতা এবং কল্পনার সংমিশ্রণে তার কবিতা হয়ে ওঠে জীবন্ত। বর্তমানে তিনি কাব্য ভাবনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করতে গান রচনায় ব্রতী হয়েছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা : ইছামতি সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার – ২০১০, বাহন সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার- ২০১১, গীতালী ললিতকলা একাডেমি সম্মাননা-২০১২, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন পুরস্কার- ২০১৩, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম সম্মাননা- ২০১৪ এবং আলপনা বৈঠক সম্মাননা ২০১৪, সুফি মোতাহার হোসেন সম্মাননা -২০১৫, কাব্যকথা সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬, মাসিক ভিন্নমাত্রা সম্মাননা- ২০১৭।
শখ: বই সংগ্রহ এবং অবসরে বই পড়া।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের মানুষ নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে সেই লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/১ জানুয়ারি ২০২১/জেডএন

