১৬ ডিসেম্বরের পরে যারা ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করে তারা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়-খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী এমপি
দিনাজপুর প্রতিনিধি : ১৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর মুক্ত দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পরে যারা ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করে তারা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়। এছাড়াও ১৬ ডিসেম্বরের পরে যারা নতুন করে ইতিহাস রচনা করতে চায় তারা নিজ হাতে ইতিহাসকে ধৃত করতে চায়। এরা কখনই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি নয়। ১৯৭১ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশে ফিরে এসে এদেশের বুদ্ধিজীবী অসহায় মানুষদের নির্মমভাবে হত্যার কথা জানতে পেরে ১৪ ডিসেম্বরকে মহান বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রকৃত বাঙালিরা কখনই এদেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে পারে না। আজকে যারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে নিয়ে যে কুৎসা রটিয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন তারা আসলে এদেশের স্বাধীনতা স্বপক্ষের কোনো শক্তি নয়। এদেশের স্বাধীনতাকে পুনরায় স্তম্ভিত করে দেয়ার সর্বদা চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু তারা জানে না আমরা বাঙালি। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত হয় লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বের কাতারে। যার প্রমাণ পদ্মা সেতু নির্মাণ। যেখানে পদ্মাসেতু নির্মাণে উন্নত রাষ্ট্রসহ অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় নিজস্ব অর্থায়নে তা আজ বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। তাই আমরা কারো হুংকারে ভীত নই। ১৪ ডিসেম্বর এবং ১৬ ডিসেম্বরের পরে আর কোন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়নি হতে পারে না। এখানেই ইতিহাসের গেটলক।
১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দিনাজপুর শিল্পকলার একাডেমীর মিলনায়তনে ‘১৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর মুক্ত দিবস’ উদ্যাপন পরিষদ এর আয়োজনে দিনাজপুর মুক্ত দিবস আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুর মুক্ত দিবস উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি জাকিয়া তাবাস্সুম জুঁই, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: মাহমুদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ফারুকুজ্জামান মাইকেলসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনাজপুর মুক্ত দিবস উদযাপনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪ ডিসেম্বর-২০২০/জেডএন

