9:25 pm |আজ শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩১শে অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম:
ধূমপান! নাকি মরণ টান? । ডা. মুহাম্মদ আজিজুর রহমান

ধূমপান! নাকি মরণ টান? । ডা. মুহাম্মদ আজিজুর রহমান

ধূমপান! নাকি মরণ টান?
ডা. মুহাম্মদ আজিজুর রহমান

 

ধূমপান! নাকি মরণ টান?
আপনি জানেন কি বর্তমান বিশ্বে জীবিত মানুষের ৫০০ মিলিয়ন মারা যাবে শুধুমাত্র একটা কারণজনিত রোগে? বর্তমানে প্রতিবছর চার মিলিয়নের বেশি মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র এই জিনিসটার কারণে? শুধুমাত্র এই কারণে প্রতিবছর সর্বাধিক মানুষ রোগে আক্রান্ত হয়?

ভাবছেন পারমাণবিক বোমা? নাকি জীবণু অস্ত্র প্রয়োগ! নাকি এটা আইএস? অথবা আল-কায়দা! না না এমন কিছুই না! তবে হ্যাঁ, সত্যিই এটা পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি প্রাণহানিকর, স্লো পয়জন! এটাই সেই অমোঘ স্বর্গীয় শুধা যার মাধ্যমে বহুজাতিক কম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে আর ধীরে ধীরে মানুষের রক্তে বিষ পুস করছে!

এটা অন্য কিছু নয়, হাতের পাশেই পাওয়া যায় অল্প খরচেই! আর তা হলো- তামাক জাত দ্রব্য তথা বিড়ি-সিগারেট!

বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র ১০টি দেশেই দুই তৃতীয়াংশ বিড়িখোর রয়েছে! আর এই দশ শীর্ষ দেশের তালিকাতে বাংলাদেশও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ী বাস করে চীনে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০% আর ১০% বাস করে ইন্ডিয়াতে!

বিড়ি-সিগারেট কেন ক্ষতিকর?
প্রতিটি সিগারেট থেকে প্রায় ২০০০ থেকে ৪০০০ ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরিত হয়! যার ভেতর ৬০টির উপর রয়েছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারক পদার্থ!

ধূমপানে কীভাবে আসক্তি আসে?
তামাকের রয়েছে নিকোটিন নামক এক ধরনের এলকোলয়েড। যেটা ব্রেইনের নিকোটিনিক রিসিভটারের সাথে বাইন্ড করে ফলে নেশার উদ্বেগ হয়! যদিও নিকোটিন সরাসরি কোনো ক্ষতি করে না কিন্তু নেশা সৃষ্টির মাধ্যমে শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়!

ধূমপান করলে কী কী রোগ হয়?
আমার ধারনা শরীরে এমন কোনো রোগ নেই যার সাথে ধূমপানের সম্পর্ক নেই। তার পরেও বিশেষ করে হয়ে থাকে-
১। সিওপিডি
২। ক্যান্সার
৩। হার্ট অ্যাটাক
৪। ব্রেইন স্টোক
৫। পেপটিক আলসারেসন
৬। এজমা
ইত্যাদি ইত্যাদি!

ধূমপান করলে কী কী ক্যান্সার হতে পারে?
১। ফুসফুস ক্যান্সার
২। ঠোটের ক্যানসার
৩। মুখের ক্যান্সার
৪। জিহ্বার ক্যান্সার
৫। শ্বাসনালীর ক্যান্সার
৬। খাদ্যনালীর ক্যান্সার
৭। অগ্নাশয়ের ক্যান্সার
৮। কিডনিতে ক্যান্সার
৯। পস্রাবের থলিতে ক্যান্সার
১০। জরায়ুতে ক্যান্সার

কীভাবে ক্যান্সার করে?
সাধারণত সিগারেটে পলিসাইক্লিক হাইড্রোকার্বন এবং নাইট্রোস্যামাইন বেশি পরিমাণ থাকে! আর এটা কোষের ক্যান্সার প্রতিরোধকারী জিন k-ras এবং p53 কে ডিএ্যাক্টিভ করে ফেলে। ফলে কোষের স্বাভাবিক গ্রোথ নষ্ট হয়ে অস্বাভাবিক গ্রোথ হয়। ফলে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়!

গর্ভবতী মা যদি সিগারেট খায়?
যদি গর্ভবতী মা সিগারেট খায় তাহলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে! এছাড়া যদি নষ্ট না হয়, তাহলে বাচ্চা জন্মের সময় আসার আগেই ডেলিভারী হয়ে যেতে পারে! অপুষ্ট বাচ্চা হতে পারে! বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি থাকতে পারে! আর সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো-
★★গর্ভবতী মহিলার স্বামী যদি ধূমপায়ী হয় তাহলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি★★

তবে বাচ্চা গর্ভে আসার আগে ধূমপান বন্ধ করে দিলে বাচ্চার আর কোনো রিক্স থাকে না!

এখন নিজেই ভাবুন ধূমপান করবেন, নাকি করবেন না?

সবাই ভালো থাকবেন।
সুস্থ থাকবেন।

(লেখক :  এমবিবিএস, বিসিএস
ডি-অর্থো (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিকস সার্জন
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।)

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ আগস্ট ২০২০/জেডএন

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান