আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঈদসংখ্যায় নবীনের পঙক্তিমালা

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

[‘নবীনদের জন্য জায়গা দেওয়া হয় না। তাদেরকে উৎসাহিত করেন না কেউ।’- এমনই সব অভিযোগ শুনে আমি অভ্যস্ত। আমাদের সময়েও এমনই কথা আমরাও বলেছি। কথা সত্য। এই সত্যকে ভাঙতে যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছি, সেখানেই নবীনদের জন্য স্থান তৈরি করে নিয়েছি। কবি সুকান্ত সুকান্ত ভট্টাচার্যের কথা মনে রেখে তাদের জন্য স্থান ছেড়ে দিয়েছি; দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনেও।
যদিও কোথাও কোথাও এ নিয়ে বিপত্তি পোহাতে হয়নি তা নয়, কিন্তু আমি জানি- এই নবীনরাই একদিন বাংলাসাহিত্যে বরেণ্য হয়ে ওঠার শক্তি রাখে। যদি তারা সাহিত্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, যদি তারা শব্দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখে- সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সহচর্য পেলে এরা নিশ্চয় একদিন বাংলাকাব্যকে আরও হৃদ্ধ, আরও প্রসিদ্ধ করে তুলতে পারবে।
অনেকেই বলেন, নবীনরা পড়ে না। আমি তো দেখি এরা পড়ে। বই পড়ে। নেট ঘেটে লাইব্রেরির বুহ্য ভেদ করে পড়ে নেয় বইপত্তর। পড়ে বলেই এদেরকে আমার ভালো লাগে। তবে অনেকেই আবার পড়ার সঠিক উপকরণ পায় না। তারা বিপৎগামী হয়ে বিপদের হৃদে পড়ে তলিয়ে যায়। কিছু সময় সাহিত্যাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে এর উঠোনকে নষ্ট করেও যায়। তাদের কথা ভিন্ন। আমি লেখক হয়ে ওঠার বাসনায় যারা শব্দ তপস্যা করছে, তাদের কথাই শুধু বলবো।
এবারের ঈদসংখ্যায় এই সব নবীন শব্দতাপসদের মধ্য থেকে চার নবীন কবিকে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আলোকিত প্রতিদিনে উদ্যোগ নিয়েছি। নিন্দা না করে সঠিক সমালোচনায় তাদেরকে এগিয়ে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস। — সৈয়দ আহসান কবীর, সাহিত্যসম্পাদক ]

সি ফা ত শা হ রি য়া র প্রি য়া ন
অমানুষ
::::::::::::::::::::::

মানুষ যাদের মনে করি
যাদের নিয়ে বাঁচতে চাই
সে মানুষই অমানুষ হয়ে
মানুষ ঠকায়, বিষ খাওয়ায়

- Advertisement -

যে মানুষ মৃত্যু খোঁজে
লোভের বশে সাজে অ’তে
হত্যাতেও যার দ্বিধা নেই
কারবারি হয় মৃত্যু-খতে।

মনের ভেতর প্রশ্ন জাগে
মানুষ যদি খাওয়া যেত
তবে কি এরা মানুষ খেত?

সত্যিই এরা মানুষ খেত।

আ ক লি মা আ ক্তা র রা ই সা
ঘুমায় মনুষ্যত্ব
::::::::::::::::::::::

যন্ত্রণারা কাঁপিয়ে হৃদয়
যায় দিয়ে ভয়-
অন্তপুরে ভরদুপুরে,
নিত্যঘোরে কাটে সময়।

সময় ঘড়ি যমের কাটা
নিত্য অসুখ জোয়ার-ভাটা।

ভাটার বালি মৃত্যুকালি
নিত্য নতুন কৃষ্ণকলি,
যাচ্ছে নেচে খাচ্ছে বেঁচে
মনের যত অলিগলি।

অলিগলির চিপায়-চাপায়
মানবতার ছিন্ন মাথায়
নানারকম টাল-বাহানায়
মনুষ্যত্ব নিরব; ঘুমায়।

ঘুমায় মানুষ, ঘুমায় বিবেক।
জেগে থাকে জোচ্চোর-চোর
খুলে রাখা স্বপ্নের দোর
লুটপাট হয় ভোর ও আবেগ।


সৌ মে ন্দ্র গো স্বা মী
ইতি তোমার প্রিয়
::::::::::::::::::::::

যদি ভালোবেসে টোলপড়া গালে একটু হাসির ঢেউ তোলো

আভিজাত্যের অহঙ্কার দিতে না পারলেও

ছোট্ট ছোট্ট খুশিতে ভরিয়ে দিতে পারবো-

একসাথে থাকা জীবনের প্রতিটা দিন ।

এই যেমন ধরো-

অফিসের শেষে, অফিসের দেওয়া সাদা গাড়িটা

বাসার সামনে পৌঁছুতেই ফোনে বললাম-

আজ ফিরতে অনেক রাত হবে ।

অভিমানে চোখ দুটো তোমার ভিজ উঠতে শুরু করেছে
ঠিক তখনই বেজে উঠলো কলিংবেল !
দরজা খুলতেই দেখলে –
একগুচ্ছ গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে এই স্বার্থপর মানুষটা

বলো , তুমি কি ভালোবেসে জড়িয়ে ধরবে না ?

অ প রা জি তা
সুখের নীড়
::::::::::::::::::::::

পুষ্পপল্লবের ন্যায় সুসজ্জিত
একটি সংসার-
নব আলোর ক্ষীণতর রশ্মিতে রাঙানো
একটি হাসির মঞ্চ ;
সুখের সোপানে আলোকিত নয়নে প্রতীয়মান
তরতাজা প্রাণোচ্ছল ক’টি প্রাণ ।

সুর যেখানে ধীমি ধীমি বেজে চলেছে ,
হেয় ক্লেশকে বহুদূরে বিস্তৃত নিরাশ করে ।
সূর্যের উষ্ণ অর্ভ্যথনায় জাগ্ৰত সদা
কালো কালবৈশাখীর ঝড় সেখানে বেমানান।

- Advertisement -
- Advertisement -