আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন

বাড়ি-দোকান ভাড়া প্রসঙ্গে দরকার সরকারি নির্দেশনা

বাড়ি-দোকান ভাড়া প্রসঙ্গে দরকার সরকারি নির্দেশনা

:: তুষার আহসান ::
কোভিড- ১৯ মহামারীর এই সঙ্কটকালে সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় আগামী দুই মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ এই দুই মাস কোনো ব্যাংক কোনো ঋণের সুদ আদায় করতে পারবে না। যে সুদ হবে তা হিসাব করে আলাদা রাখতে হবে। কীভাবে-কবে পরিশোধ করতে হবে, তা পরে জানানো হবে। আজ রোববার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ এখনো বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া প্রসঙ্গে নেই কোন উদ্যোগ, নেই নির্দেশনা; আছে শুধুই অনুরোধ।
করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়ায় ভয়াবহ মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও রয়েছে সঙ্কটে। আর মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্তরা রয়েছেন আরও সংকটে। চাকুরিচ্যুতি না ঘটলেও বেসরকারি চাকুরেদের অধিকাংশই পাচ্ছেন না বেতন। অফিস-আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জন আপাতত বন্ধ। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো বাড়িভাড়া দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, করপোরেট ও সরকারি চাকরি ব্যতীত সবাই একপ্রকার বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। অবশ্য প্রণোদনা যে যে খাতে দেওয়া হয়েছে, সেসব চাকুরেদের হিসাবটা একটু আলাদা। যদিও ওসব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকরাও এখনো তাদের বেতন পাননি বা পাচ্ছেন না বলে আমরা জেনেছি। এদিকে নানা ছুঁতোই মার্চের বেতনের খণ্ডাংশ যে সব প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের দেওয়া হয়েছে বা যারা পেয়েছেন, তা দিয়ে সংসারে খাবারের টাকাই হয়নি অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়ায় রয়েছে বাড়ির মালিকদের চাপ। অথচ বাড়িওয়ালা ও বিজনেস মল ও দোকানঘর মালিকদের অধিকাংশের কথা ছিল- কড়া সুদে লোন নিয়ে বাড়ি করেছি, শোধ দেবো কীভাবে? এখন তো তাদের একটা হিল্লে হলো। তবে এখনও কেন কোন নির্দেশনা নেই?
অবশ্য অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ও দোকানভাড়ার ওপরেই চলেন। এটাও ঠিক। তবে যেভাবেই চলুন না কেন, এমন একটি সংকটমুহূর্তে ভাড়ায় যদি ক্যাটাগরি ঠিক করে দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হত, তবে বিপাকে পড়তে হত না ভাড়াটিয়াদের। যেমন: যাদের ব্যাংক লোন আছে, তাদের যেহেতু সুদ বন্ধ রাখা হয়েছে, তাদের ভাড়া এক তৃয়াংশ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নিতে বলা যেতে পারে। যাদের লোন নেই, তারা অর্ধেক ভাড়া নিতে পারবে ইত্যাদি। এটা মোটা দাগে বললাম। তার মানে ভেবে চিন্তে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীরা অনেকেই তাদের বাড়িতে চলে গেছে। তাদেরকে ফোনে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে- বাসা ভাড়া পরিশোধের জন্য। অনেক বাড়িওয়ালারা ইতোমধ্যে ভাড়া মওকুফ করেছেন। এটা প্রশংসনীয়। অন্যরাও মানবিক হবেন- এটাই কাম্য। তবে প্রয়োজন সরকারি নির্দেশনা। অনুরোধে কোন কাজ হতে আমরা কখনোই দেখিনি। তাই কোন অনুরোধ নয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
Developed By Sbtechbd