6:44 pm |আজ মঙ্গলবার, ২৭শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দায় কার?

:: তুষার আহসান ::
দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলো, দল বেঁধে সব শ্রেণির মানুষ রাজধানী ছাড়লো। সে যেন এক জনস্রোত। সাধারণ ছুটি বাড়লো কি বাড়লো না, সেটাকে মাথায় না রেখেই ৩ এপ্রিল রাত থেকেই ঘটে গেল ফের ঘটনা। পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা বা থাকার ঘোষণা না আসায় ফিরতে শুরু করলো পোশাক শ্রমিকরা। ফের জনস্রোত। তারা আসলো, বন্ধ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিলেন বিজিএমইএ। ফের ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু হলো, দেখা গেল জনস্রোত। আবার গত দুই দিনে সকল বাধা অতিক্রম করেই ফিরছেন যারা তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টস কর্মী। এতে কী দাঁড়ালো? পথের দীর্ঘ স্রোতে দীর্ঘক্ষণ পাশাপাশি এসে কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হলে তা যদি করোনা মোকাবেলা করা যায় তো ঠিক আছে, নইলে এই দায় কার?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গার্মেন্টস খুলে দেওয়া আত্মঘাতী, বিফলে যেতে পারে সব উদ্যোগ। সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের মতে, করোনা মহামারির মধ্যে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি তা সমগ্র দেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের যাবতীয় উদ্যোগ বিফলে যেতে পারে বলেও তাদের মত।
সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদসহ সবার বক্তব্য উপেক্ষা করে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হলো। সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে- গার্মেন্টস খোলা মানে কিন্তু শুধু গার্মেন্টস খোলা না। এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও খুলে যাওয়া। যেমন- যাতায়াত ব্যবস্থা সচল হলো, এই সুযোগে বাবু বাজারের পাইকারি মার্কেট খুলে গেল, দোকান মালিক সমিতি দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে নিল। ফলে সরকার এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাসায় থেকে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশলকে ঝুঁকিতে ফেলে দিল।’
লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘এই দুর্যোগের সময় পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা নষ্ট পুঁজিবাদী ব্যবস্থার চরম দৃষ্টান্ত, যেখানে জীবনের কোনো মূল্য নেই, শুধু মুনাফাটাই বড় বিষয়। যদি সেখানে বড় ধরনের কোনো সংক্রমণ হয়, তাহলে শুধু শ্রমিকরা নয়, সমাজের অন্যান্যরাও আক্রান্ত হবে। যেখানে গার্মেন্টস শিল্প এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এটা জেনেও কারাখানা চালু করা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন বিরোধী।’
দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা যখন বাড়ছে, বিশেষজ্ঞরা যখন মে মাসকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন, ঠিক সেই সময়ে পোশাক কারখানা খুলে দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এমনকি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছড়িয়ে যাওয়া চরম ঝুঁকির নারায়ণগঞ্জেও ২৩২টি কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান