নাজমুল হাসান:
কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ৩টি পদের বিপরীতে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রার্থীরা হলেন— মো. গোলাম মোস্তফা, মো. আলমাস উদ্দিন, মো. সেলিম মিয়া, মো. মনির হোসেন, মো. ইব্রাহিম সরকার, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আব্দুস সাত্তার বাবু ও মির্জা মনিরুল হক।
৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩১৭ জন। এর মধ্যে ৪১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২২৬ ভোট পেয়ে ৭ নম্বর ব্যালটের প্রার্থী মো. আব্দুস সাত্তার বাবু প্রথম হন। ১৭৫ ভোট পেয়ে ২ নম্বর ব্যালটের প্রার্থী মো. আলমাস উদ্দিন দ্বিতীয় এবং ১৫৫ ভোট পেয়ে ১নং ব্যালটের মো. গোলাম মোস্তফা তৃতীয় হয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথম হওয়া প্রার্থী মো. আব্দুস সাত্তার বাবু তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন মুরাদনগর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম।
নির্বাচিত প্রার্থীরা জানান, কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিয়ম অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি কলেজমুখী করার জন্য তারা কাজ করবেন।
অপরদিকে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে প্রার্থীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনজনকে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার আলোচনা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি সমালোচনার সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। ৯ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ১২ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। স্বল্প সময়ের কারণে অনেক ভোটারের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেকেই কলেজের আইডি কার্ড না আনায় ভোট দিতে পারেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ২০২৩ সালে এই কলেজে যোগদান করি। শুনেছি দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন হয়নি। তাই এবার নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল, তবে দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে এসে অনেক অভিভাবকের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে কলেজের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
আলোকিত প্রতিদিন / ১২মার্চ ২০২৬ /মওম

