আজ শুক্রবার, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ১৯ জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মানিকগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় ৪২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জঃ গত ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়ের আরিচা ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৪২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জের সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর ও হরিরামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। বেশির ভাগ ঘর-বাড়িতে পানি উঠায় গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব অঞ্চলের মানুষ। পদ্মা-যমুনা ছাড়াও জেলার শাখা নদী গুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায়  পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। খাবার পানি ও খাদ্য সংকটের কারণে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বানভাসীদের। রাস্তাঘাট তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত গ্রামের আরতি জানান, গত দুই দিনে পানি বৃদ্ধির কারণে গরু-ছাড়াল নিয়ে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। একই গ্রামের খুশি বহন রাজবংশী বলেন, একদিকে করোনার মধ্যে আয়-রোজগার বন্ধ অন্যদিকে বন্যার পানিতে কোনদিকে যাওয়া আসা করা যাচ্ছে না। হাট-বাজার, রাস্তাঘাট তলিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে আছি, কেউ দেখতেও আসেননি। রানী বালা বলেন, আমাদের বাড়িসহ চারদিকে পানি। টিউবয়েলও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, পানিতে টয়লেট তলিয়ে গেছে ফলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে আছি। জিয়নপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, আমার গ্রামের ৬০ শতাধিক বাড়িতে পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন গ্রামের সব মানুষ। কোনো বরাদ্দ পাইনি। সরকারের কাছে জনগণের জন্য খাদ্য বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি বাড়ার ফলে উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারী ও জিয়নপুর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বসতভিটায় পানি ঢুকেছে। হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শিবালয়ের পাটুরিয়া এলাকায় যমুনা নদীর সঙ্গে এই নদীর সংযোগ রয়েছে। পাটুরিয়া থেকে হরিরামপুরের ওপর প্রবাহিত হয়ে এই নদী ভাটিতে মিশেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে হরিরামপুরের রামকৃষ্ণপুর, হারুকান্দি, লেছড়াগঞ্জ, আজিমনগর ও ধূলসূড়া ইউনিয়নের কয়েকটি নীচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি এলাকায় পানির স্রোতে কাচা রাস্তা ধসে গেছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ জুলাই’২০/এসএএইচ

- Advertisement -
- Advertisement -