আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গাইবান্ধায় প্রাণি সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টের বেহাল অবস্থা

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

সংবাদদাতা, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৭টি প্রাণি সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টে চলছে প্রাণি সম্পদ কল্যাণ ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম। মাসিক ৫শত টাকা সম্মানির বিনিময়ে নিরলসভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এসব কেন্দ্রে নিয়োজিত প্রজননকর্মীগণ। জানা যায়, ১৯৮৬ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা প্রাণি সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টের জন্য একটি ভবন নির্মিত হয়। তখন থেকে স্থানীয়দের গৃহপালিত পশু -পাখির সেবা ও প্রজনন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ পয়েন্টে প্রথম পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল একজন উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভিএসএ) ও একজন প্রজননকর্মী। ১৯৮৭ সালে শোভাগঞ্জ পশু-পাখি কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টের কার্যক্রম শুরুর পর উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতে ১৫টি প্রাণি সম্পদ বা পশু-পাখি কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট স্থাপন করা হয়। এসব পয়েন্টে কাজ পরিচালনার জন্য ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে ভবন নির্মিত হয়। এছাড়া, তিস্তা ও ব্হ্মপুত্র নদী বেষ্টিত কাপাসিয়া ও বেলকা ইউনিয়নে একটি করে সাব-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। নিয়োগ দেয়া হয় প্রতিটি কেন্দ্রে ১জন করে উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভিএসএ) ও ১ জন করে প্রজননকর্মী (এ আই)। এসব কেন্দ্রের দীর্ঘদিন ধরে কোন প্রকার সংস্কার হয়নি। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও প্রজনন সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদী সরবরাহ না করাসহ সু-নজর না থাকায় পয়েন্টগুলো বর্তমানে চরম দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তবুও থেমে নেই পশু-পাখির সেবামূলক কার্যক্রম। উপজেলার ১৭ জন এ আই (কৃত্রিম প্রজননকর্মী) মাসিক ৫শত টাকা করে সম্মানি দিয়ে পরিবারের খাবারের নিশ্চয়তা না থাকলেও নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে সেবা। তারা এ সম্মানী পাচ্ছেন কৃত্রিম প্রজনন প্রকল্প থেকে। এসব প্রজননকর্মী এখন মানুষের বাড়িতে গিয়ে গৃহপালিত গরু, ছাগল, মহিষকে প্রজননসহ চিকিৎসা সেবা ও পাখির চিকিৎসা সেবা প্রদান প্রয়োজনীয় ফি ও ঔষধের মূল্য গ্রহণ করে। বামনডাঙ্গা পয়েন্টে প্রজননকর্মী না থাকলেও নিয়োজিত রয়েছেন উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ: ওয়াহাব মন্ডল। শোভাগঞ্জ পয়েন্টে রয়েছেন এআই কর্মী হীরালাল চৌহান। শোভাগঞ্জ পয়েন্টের নিজস্ব ২০ শতক জায়গার মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যায়ে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হয়। উক্ত ভবনের প্রতি কোন সু-নজর না থাকায় সরাঞ্জামাদি, আসবাবপত্র এমনকি ইট, টিন, কাঠগুলো খুঁইয়ে যাচ্ছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সীমানাভ্যন্তরে অবস্থিত বামনডাঙ্গা প্রাণি সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টের ভাল নেই অবকাঠামোসহ সরঞ্জামাদি। একই অবস্থায় রয়েছে অন্যান্য পয়েন্টগুলো। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, এসব পয়েন্টর উন্নয়নকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রাণি সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টগুলার ভরনের অবস্থাও ঝুঁকিপুর্ন। কৃত্রিম প্রজনন ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে মানুষের বাড়ীতে গিয়ে। গাইবান্ধা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, পয়েন্টগুলোর খোঁজ-খবর নিয়ে সার্বিক উন্নয়নকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ জুন’২০/জেডএন

- Advertisement -
- Advertisement -