7:49 am |আজ মঙ্গলবার, ১২ই মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম:
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে : সিইসি আলফাডাঙ্গায় ছিনতাই হওয়া বিকাশের ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেলো সাভারে ৪১টি পরিবার ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকদের প্রিয় হয়ে উঠেছে জৈবসার মাদারীপুরে শিক্ষকদের টাইমস্কেলসহ সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন ফরিদপুরে হতদরিদ্র পাঁচশ পরিবারের মাঝে এফডিএ’র লেপ বিতরণ দিনাজপুর গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ কাজের অগ্রগতি প্রশংসনীয় বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা, পোস্টার ও মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে বন্দর সিবিএ আয়োজিত সমাবেশ কুড়িগ্রাম পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব গ্রহণ
করোনার প্রভাব পোশাকখাতে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আভাস বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানার

করোনার প্রভাব পোশাকখাতে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আভাস বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানার

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্কটে দেশের পোশাক কারখানাগুলো সক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করে কাজ চালাতে পারছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানা হক বলেছেন, এর প্রভাবে চলতি জুন মাস থেকেই কর্মী ছাঁটাই শুরু হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এই ছাঁটাইয়ের ফলে যেসব শ্রমিক চাকরি হারাবেন, তাদের পুনর্বাসনে সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি বলেছেন।
পোশাক শ্রমিকদের জন্য একটি করোনাভাইরাস টেস্টিং ল্যাবের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ছাঁটাইয়ের এ বাস্তবতা স্বীকার করেন রুবানা।
করোনাভাইরাস সঙ্কট পোশাক খাতে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর নিবন্ধিত কারখানা ছিল ২২৭৪টি, তার মধ্যে এখন ১৯২৬টি চলছে। অর্থাৎ বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন করছেন। ছাঁটাই কিন্তু পহেলা জুন থেকে হবে আসলে। এটা একটা অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা। কিন্তু এই মুহূর্তে কিচ্ছু করার নেই। কারণ, শতকরা ৫৫ ভাগ সক্ষমতায় কারখানাগুলো চললে আমাদের পক্ষে ছাঁটাই ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
রুবানা বলেন, ‌‌‘এই ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের জন্য কী করা হবে- সেজন্য আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে আবেদন করি যে, কীভাবে সবাই মিলে এই ক্রাইসিসটাকে অতিক্রম করতে পারি। তবে ছাঁটাই আসলে হবে।’
অবশ্য পরিস্থিতি যদি হঠাৎ করেই ভালোর দিকে যায়, তাহলে ওই শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার পাবে বলে আশ্বাস দেন বিজিএমইএ সভাপতি।
ছাঁটাই প্রসঙ্গে কথা বলতে পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নিজের বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে আসেন রুবানা হক। তিনি বলেন, ‘জুনের মধ্যে ছাঁটাই হবে এমন ঘোষণা আমি দিইনি। এ ধরনের শিরোনাম পোশাকখাতে উসকানির একটি চেষ্টা। আামি বলেছি পোশাকখাতে সামগ্রিকভাবে অর্ডার কমে গিয়ে সক্ষমতার ৫৫ শতাংশ কাজ করে চলছে জুন মাসে। এর ফলে ছাঁটাইয়ের মত ঘটনা ঘটতে পারে।’
পোশাকখাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে রুবানা হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুধু মার্চ থেকে মে পর্যন্ত একটি সামগ্রিক বিবেচনায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হচ্ছে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার। কাজেই আমরা বলতে পারি শতকরা ৩০ ভাগ অর্ডার কমে আসবে আগামীতে। জুনে আছি ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে। জুলাইতে কি হবে জানি না। তবে যত যাই হোক এই অর্থবছরে একেবারে কমে গেলেও রপ্তানি হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার।’ রুবানা হক বলেন, ‘যেসব অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হয়েছিল, আলোচনা করে তার ২৬ শতাংশ ফেরত আনা গেছে। কিন্তু পেমেন্টের শর্তগুলো বদলে গেছে। যারা এখনই পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন তারা অন্তত ১৮০ দিন পরে টাকাটা দেবেন। কেউ বলছেন পণ্যগুলো আগামী বছর নেবেন। কিন্তু টাকাগুলো কখন দেবেন সেটা বলছেন না। কেউ ডিসকাউন্ট চাইছেন। অনেকে আবার পেমেন্ট নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না।’ আবার অনেক অর্ডার রয়েছে যেগুলোর বিপরীতে সুতা, কাপড় কেনা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কোনো খবর ক্রেতারা নিচ্ছেন না বলে জানান রুবানা।’ তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা আছি, কিন্তু আমাদের কাউকে আশা হারালে চলবে না। অর্ডারগুলো ফেরত আনতে হবে। ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে আমরাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো।’
এক জরিপের বরাত দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বিশ্বে ‘কনজাম্পশান’ ৬৫ শতাংশ কমে যাবে। সেটার প্রভাব অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিতেও পড়বে। আমরা আশা করতে পারি না যে অ্যাপারেলের চাহিদা বাড়বে। মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট, হেলথ টেক্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা সাংঘাতিকভাবে বাড়বে। এতে করে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলো রিটুল করতে হবে।’
দীর্ঘমেয়াদী বৈরী প্রভাব পড়লে ক্রেতারা পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে। তবে বছরের শেষে ক্রিসমাসের দিকে কেনাকাটা আবার বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন রুবানা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান