আজ সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ১৭ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আক্রান্ত কিছুটা বাড়লেও ক্ষতি বেশি হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যখন বেশি বাড়ছে, তখন লকডাউন শিথিল করায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কিত হলেও তেমন আশঙ্কা করছেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের জীবিকার তাগিদে সরকারকেও সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা খুলে দিতে হয়েছে। এসব কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়ত আরও কিছু বৃদ্ধি পেতেও পারে। তবে এই বৃদ্ধি দেশে খুব বেশি ক্ষতিকর কিছু হবে না।’
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নার্সিং ও মিড ওয়াইফারি অধিদপ্তরে নতুন ৫ হাজার নার্সের বরণ অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক একথা বলেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তার এক মাস পর ঈদের আগে সরকার যখন কিছু বিধি নিষেধ শিথিল করেছে, তখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত গতিতে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বুধবারই রেকর্ড ১ হাজার ১৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, রেকর্ড ১৯ জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারও হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা গত এক মাসে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমরা বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারছি। যত বেশি আক্রান্ত মানুষ চিহ্নিত হবে, তত আক্রান্তের ঝুঁকিও কমবে। এই নমুনা পরীক্ষা খুব দ্রুতই ১০ হাজার এবং এরপর তা ১৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এর জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত কিটসও মজুদ আছে।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাদুর্ভাব দেখেও সরকার সঠিক সময়ে যথাযথ ভূমিকা নেয়নি বলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বিস্তার লাভ করেছে বলে রয়েছে অভিযোগ। দেশের স্বাস্থ্যসেবার রুগ্ন দশাও চলছে বিস্তর সমালোচনা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আবারও বলেন, ‘সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেই আজ বিশ্বের আক্রান্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই কম। করোনায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় শুরু থেকেই জোরালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। হাসপাতাল বেড বৃদ্ধি,পিপিই মজুদ বৃদ্ধি করাসহ এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক চৌধুরী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ৫ হাজার নিয়োগ দেওয়ায় এখন নার্সের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আরও ১৫ হাজার নার্স, মিডওয়াইফারি ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান।

- Advertisement -
- Advertisement -