আজ বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

পকেট গোছাতে ডিএসসিসিতে তড়িঘড়ি পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া

পকেট গোছাতে ডিএসসিসিতে তড়িঘড়ি পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া

 তাপসকে বিব্রত করতেই এসব চক্রান্ত, বলছে একাধিক সূত্র

:: জোসনা মেহেদী ::
পকেট গোছাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) তড়িঘড়ি পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নব নির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে বিব্রত করতেই এসব চক্রান্ত, বলছে একাধিক সূত্র। বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের পকেট-কর্মকর্তারা আখের গুছিয়ে নিতে ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন বাছাই কমিটির সভা। উপঢৌকন আর প্যাকেট-পকেটের কারবারে চলছে পদায়ন কর্মসূচি। এর আগে আমরা তুলে ধরেছিলাম ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিনের নানা অপকর্ম। সে সময় উর্ধ্বোতন মহল অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রতিবেদককে জানান। কিন্তু এরই অন্তরালেই তারাই রয়েছেন বলে দাবি অনেকের।
জানা যায়, সাবেক মেয়র সাইদ খোকনের আমলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারিকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে টাকার বিনিময়ে আশ^াস দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়াদের শেষ অবস্থায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও আলোচনার শীর্ষে চলে আসেন মেয়র সাইদ। বেড়িয়ে আসতে থাকে থলের বেড়াল। কিন্তু তখনো আরেক দফা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আছে বলে আত্মবিশ^াস ছিলো সাইদ ও তার পকেট-কর্মকর্তাদের। ফলে আরও বেশি সমালোচনায় না পড়তে পদোন্নতির কাজ থামিয়ে রাখা হয়। কিন্তু মনোনয়নের সময়ই আশার গুড়ে বালি পড়লে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেন টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি পাওয়ার আশায় অপেক্ষমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ ততোক্ষণে অনেকেই লক্ষ-লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছেন সাইদ খোকনের পকেট-কর্মকর্তাদের হাতে। সূত্র জানায়, এমন এক পরিস্থিতিতে আবারও তাদেরকে আশ^স্থ করা হয় এই বলে যে, নতুন মেয়র যে-ই হোন না কেন, ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার আগেই সব কাজ সমাধান করা হবে। সে কথা রাখতে এবং আরও সমস্যার উদ্ভাবন যেন না হয় এবং ভেতরের খবর ধামাচাপা দিতে গত ফেব্রয়ারির ১৯ তারিখে তড়িঘড়ি করে বাছাই কমিটির সভা ডাকা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদায়ন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জানা গেছে, ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও খিলগাঁও (অঞ্চল-২) তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মিলে প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে নিজেদের পদোন্নতির সব ব্যবস্থা পাকাপক্ত করে রেখেছেন। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। অথচ প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের অর্থ লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। আর তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন লুটপাট-আত্মসাতের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামের একনিষ্ট ভক্ত ও অর্থ যোগানদাতা বলেও পরিচিত।
নগর ভবনে বিভিন্ন দফতরে ঘুরে দেখা গছে, এ সব বিষয় নিয়ে কানাঘোসা ও আভ্যন্তরীন উত্তেজনা চলছে। যে কোন সময় বঞ্চিতরা অফিস থেকে বিক্ষোভে নেমে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক সূত্র বলেছে, ডিএসসিসিকে দেওলিয়া ও নবনির্বাচিত মেয়র ফজলে নূর তাপসকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতেই নাকি চলছে এসব চক্রান্ত চলছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 Alokito Protidin
Developed By Rudra Amin