আজ বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

একুশ ও আছিয়ার গল্প

একুশ ও আছিয়ার গল্প

:: সুমন আহমেদ ::

স্বামী মারা গেছেন সেই কবেই! শেষ স্মৃতি একমাত্র ছেলে রতনকে বুকে আগলে রেখে কাটিয়ে দিতে চান জীবনের বাকিটা সময়। রতনের বয়স আর কতই-বা হবে; চৌদ্দ থেকে পনেরো। ছেলের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে বাড়ি বাড়ি ও ইটের ভাটায় কাজ করেন আছিয়া। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, মানুষের মতোন মানুষ করবেনÑ এটাই তার স্বপ্ন।
গরীবের স্বপ্ন যেন চিরকাল স্বপ্নই থেকে যায়! দিন এনে দিন খাওয়া অভাব-অনটনের সংসারে আছিয়াও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ মায়ের ওষুধের টাকা, খাবারের টাকার চিন্তায় মানুষের দারে দারে ছুটে বেড়ায় আদরের ছেলে রতন। কয়েকদিন এভাবে ছুটে একবেলা খাবার কিংবা একবেলার ওষুধের টাকাও জোগার করতে পারেনি সে। ফলে এবার কাজের পেছনে ছোটার পালা।
ভাড়ায় রিকশা নিয়ে চালাতে শুরু করল রতন। মাকে দেখাশোনার জন্য আট মধ্যে বাসায় ফেরে। যা আয় হয় তা দিয়ে মায়ের ওষুধ আর চাল-ডালের পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু আছিয়া সেরে ওঠেন না, দিনদিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভালো হাসপাতালে নিয়ে বড় ডাক্তার দেখানো দরকার; কিন্তু তার কি আর উপায় আছে!
এভাবে কেটে গেল কয়েক মাস। হঠাৎ ঘোষণা হয়, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি ডাকে। আন্দোলন দমনে শাসক গোষ্ঠী ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রæয়ারি (আট ফাল্গুন) আদেশ অমান্য করে বাংলা ভাষা প্রেমিরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে গেলে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে রফিক, বরকত, জব্বার, সালামের মতো আরও অনেকে মারা যায়। এরপর রতনকেও পাওয়া যায়নি। আর অসুস্থ বিধবা আছিয়ার কী হয়েছিলো, কে জানে! কে রাখে তার খবর।

 

 

https://www.alokitoprotidin.com/wp-admin/post.php?post=134&action=edit

সাহিত্যালো : ছড়াপদ্য


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 Alokito Protidin
Developed By Rudra Amin