মোদি সরকারের প্রতিহিংসার প্রতিবাদে সত্যাগ্রহ ধর্না ও জিহাদ ঘোষণা মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে গিয়ে রোববার পুলিশের হাতে আটক হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা। প্রকাশ্য রাস্তার উপরে শুরু হয় সিবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ধস্তাধস্তি। পরে সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার সেক্সপিয়র সরণী থানায়।

ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে হাজির হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি সরাসরি জিহাদ ঘোষণা করেন কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। শুরু করেন ভারতের সংবিধান রক্ষার দাবিতে এবং মোদি সরকারের প্রতিহিংসার প্রতিবাদে সত্যাগ্রহ ধর্না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা শহর সহ গোটা রাজ্যে। ঘটনার পরেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে পথ অবরোধ, রেল অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃনমূলের কর্মী সমর্থকরা।সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রের এই প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃনমূল।

গোটা ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক সংকট। যে কথা মেনে নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

রোববার সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য সিবিআইয়ের ডিসিপি তথাগত বর্ধনের নেতৃত্বে তার কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে যায় ৪০ জনের উপর একটি সিবিআইয়ের টিম। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি  অর্থলগ্নী সংস্থা সারদা এবং রোজভ্যালি চিটফান্ডে রাজীব কুমারের সম্পর্ক ছিলো। সেই বিষয়েই তাকে জেরা করতে এদিন সিবিআই কর্মকর্তারা তার বাসভবনে যায়।

সিবিআইয়ের অন্তর্বতী প্রধান এম নাগেশ্বর রাও জানান, চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলায় তথ্য লোপাট করার প্রমান রয়েছে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে।

সিবিআইয়ের দাবি, এর আগে রাজীবকুমারকে একাধিকবার সিবিআই দফতরে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি।

এদিন সিবিআই কর্তারা পুলিশ কমিশনারের বাড়ির গেটের কাছে যেতেই বাধা দেয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী।শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি। পরে সিবিআইয়ের ডিসিপি তথাগত বর্ধনসহ কর্মকর্তাদের জোর করে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কলকাতার সেক্সপিয়র সরণি থানায়। মুহুর্তের মধ্যে হাজার হাজার পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে কলকাতার সল্টলেকের সিবিআইয়ের পূর্বঞ্চলীয় সদর দফতর সিজিও কমপ্লেক্স, নিজাম প্যালেস সহ সিবিআই কর্মকর্তাদের বাসভবন।

এদিকে ঘটনার পরেই মমতা জেহাদ ঘোষনা করেন কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে এসে নরেন্দ্র মোদি হুমকি দিয়ে যাওয়ার পরেই আজ সিবিআই হানা শুরু করেছে। এটা জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়ঙ্কর।

কেন্দ্রীয় সরকার ভারতে সাংবিধানিক সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, বাংলাকে ঘিরে অত্যাচার করছেন মোদি, অমিত শাহরা। ২০১৯ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না বুঝেই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তিনি বলেন, চিটফান্ডের নাম করে প্রত্যেক জায়গায় জোর করে ঢুকে পড়ছে তারা। অথচ আমরাই প্রথম চিটফান্ডের মালিকদের গ্রেপ্তার করি। আমরা প্রত্যেকটি এজেন্সিকে সম্মান করি। কিন্ত অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।

মমতা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কমিশনারের মতো কর্মকর্তার বাড়িতে বিনা ওয়ারেন্টে সিক্রেট অপারেশনে এসেছিলো সিবিআই। ওদের সঙ্গে কোনও কাগজ ছিলো না। দেশের সংবিধান আজ বিপন্ন।

অন্যদিকে, এই খবর দিল্লিতে পৌছানোর পরেই সল্টলেকের সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলিয় সদর দফতর সিজিও কমপ্লেক্স, নিজাম প্যালেস সহ সিবিআই কর্মকর্তাদের বাসভবনের দখল নিতে নামানো হয় সিআরপিএফ বাহিনীকে।

এদিকে এই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানায় সিবিআই কর্মকর্তারা। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ভিডিও দেখিয়ে মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকতে চলেছে সিবিআই।

এদিকে মমতার সত্যাগ্রহ ধর্নাকে পূর্ন সমর্থন জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু নাইডু, দেবগৌড়া, অখিলেশ যাদব, কেজরিওয়ালসহ মোদি বিরোধী মঞ্চের রাজনৈতিক নেতারা।

রোববার রাতেই মমতাকে সমর্থন করে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি মমতার সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ লড়াই করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন