কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুদকের কঠিন বিচার দাবি জাহালমের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৩৩ মামলার ভুল আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালম ওরফে জানে আলম (২৮)। বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগের পর গতকাল রবিবার রাতে মুক্তি পান তিনি। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে মুক্তি পান। এ সময় তাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাই শাহানূর মিয়া। মুক্তি পেয়ে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠে রাতেই টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন জাহালম।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, এ কারাগারে বন্দি জাহালম ওরফে জানে আলমকে হাইকোর্টের নির্দেশে রবিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে তাকে দেওয়া আদালতের মুক্তির আদেশ মহা-কারাপরিদর্শকের দপ্তরের মাধ্যমে রাত ১২টা ৫মিনিটের দিকে কাশিমপুরের এই কারাগারে পৌঁছে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার জাহালমকে মুক্তির ওই আদেশ দেন।

কারাফটকে সাংবাদিকদের জাহালম বলেন, আমি কোনো অপরাধ করি নাই। তিন বছর দুদক আমারে আটকা রাখছে মামলা দিয়া- মিথ্যা মামলা দিয়া। আমি দুদকের কঠিন বিচার চাই। ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হইছি। আমি ক্ষতিপূরণ চাই রাষ্ট্রের কাছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

বন্দিজীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জজ স্যাররে বলছিলাম যে, আমি এই মামলার আসামি না। আমি আবু সালেক (প্রকৃত আসামি) না, আমি জাহালম। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস যায়নি (করেননি)। জজ সাহেব দেখছে যে, এই ছবি আর এই ছবি মিলছে, কয় আমি বলে সেই লোক। আর সাক্ষীরা তারাও বলে আমি সেই (আবু সালেক) লোক। কিন্তু আমি তো সেই সময় কোনো কিছুই জানি না।

বিনা দোষে শাস্তি পাওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার বিচার দাবি করে জাহালম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচার চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

দুদক প্রসঙ্গে বলেন, দুদক সঠিক তদন্ত না কইরা যানি (যেন) লোক ধরে না তারা। সঠিক তদন্ত নিয়া তারপর লোকদের মামলার আসামি করুক।

জেলগেটে এ সময় তার ভাই শাহানূর মিয়া বলেন, যাদের ভুলের কারণে তার ভাই জেল খেটেছে তিনি তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। পরে ওই মামলায় ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সালেকের পরিবর্তে জাহালমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে এ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন