কক্সবাজার কারাগারে ভূমিষ্ট হলো নবজাতক শিশু, পরম স্নেহে কোলে তুলে নিলেন জেল সুপার

আবু সায়েম, কক্সবাজার: কক্সবাজার কারাগারে ভূমিষ্ট হয়েছে এক নবজাতক শিশু। শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শিশুটি জন্ম গ্রহণ করেন। পরে শিশুটিকে দেখে পরম স্নেহে কোলে তুলে নেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ। নতুন কাপরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও উপহার দেন তিনি।

জানা গেছে, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জিআর ১৮৭/১৮ মামলায় আছিয়া খাতুন (২৭) নামে এক নারী এই কারাগারে আসেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ উক্ত মহিলা অন্তঃসত্ত্বা বিধায় মহিলা ওয়ার্ডে তার বিশেষ দেখভালের ব্যবস্থা করেন। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ গর্ভবর্তী আছিয়া খাতুনের বিশেষ যত্নের নির্দেশ দেন। পরে শুক্রবার সকালে এক মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয়েছে ফাহিমা আক্তার। খবর পেয়ে পরম যত্নে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন জেল সুপার। নতুন বস্ত্র আর প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দেন মা ও শিশুর জন্য।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, মানুষ মানুষের জন্য। এ কথাকে বাস্তবে রুপ দিয়েছেন জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’ এ স্লোগানকে ধারণ করে কক্সবাজার জেলা কারাগারের পথচলা। কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছে ৪২০০ জনেরও বেশি। যা ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৮ গুণ বেশি। এমতাবস্থায় জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ যোগদানের পর বন্দিদের পুনর্বাসনে অত্যন্ত একান্ত প্রচেষ্টায় ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে রূপ দিতে নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুদক্ষ পরিচালনা, ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গভীর দিক-নির্দেশনা, সু-তত্বাবধান অর্থাৎ যাকে বলা হয় বহুধর্মী গুণের অধিকারী তিনি হলেন জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ। হাজার কষ্টকে উপেক্ষা করে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৮ গুণ বন্দি নিয়ে তিনি তার কার্যক্রমকে করেছেন তরান্বিত। বাস্তবায়ন করেছেন বহুমুখী উদ্যোগ। কারাগারে হাজতী কয়েদিরা যাতে অলস সময় অতিবাহিত না করে তার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পুরুষ ও মহিলা কয়েদীরা তৈরি করছে নির্মাণ শিল্প। যার মধ্যে হস্ত শিল্প, কুটির শিপ, এবং নকশিঁ কাঁথা অন্যতম। কয়েদীদের তৈরিকৃত পণ্য কক্সবাজার বাণিজ্য মেলায় বিক্রি হচ্ছে এবং তাদের এ নির্মাণ শিল্প বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায়ও স্থান পেয়েছে এখানে তৈরি হওয়া নানা জিনিসপত্র । মহিলা কয়েদীদের শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে শিশু পার্ক। যা সত্যি কারাগারের জন্য আনন্দের বিষয়। এছাড়া দর্শনার্থীদের তৈরি করা হয়েছে আধুনিক অপেক্ষাগার। সেখানে রাখা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। সুশৃঙ্খল পরিবেশে দর্শনার্থীরা তাদের আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করে নিরাপদে বাড়ি ফিরছে। কারা কর্তৃপক্ষের আর এক ব্যতিক্রম ধর্মী নিদর্শন হচ্ছে। পূর্বে দেখা সাক্ষাতে স্লিপের জন্য ৫টাকা নিলেও তারা যোগদানের পর সেটা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। বলতে গেলে সার্বিক বিষয়াবলি এবং কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে কক্সবাজার কারাগার যেনো অধিক নিরাদ এবং মডেল কারাগার। বর্তমান জেল সুপার প্রতিনিয়ত তদারকি করেন, বন্দিদের খাবারের বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখছেন। খাবার যাতে সকল বন্দিরা কারা বিধি মোতাবেক ভোগ করতে পারে সেজন্য তিনি সুদৃষ্টি রেখেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কারা বিধি মোতাবেক কক্সবাজার কারাগারে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বর্তমান কারগারে জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার, ফার্মাসিস্ট, এবং কর্মকর্তা কর্মচারীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ বলেন, ‘বর্তমান কারাগারের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। কারাবন্দীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে ধারণ ক্ষমতা ৮ গুণের চেয়ে বেশি হলেও আমরা আমাদের কারা রক্ষীদের নিয়ে সুন্দরভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছি। কারাগারে যাতে মাদকরে ব্যবহার না হয়, সেজন্য আমরা সজাগ রয়েছি। এমনকি নবাগত কারবান্দির পাকস্থলি হতে আমরা ৮ বারে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘যোগদানের পর থেকে উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করেছি। বন্দি পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। ইনশাআল্লাহ কক্সবজার করাগারকে মডেল কারাগার এবং আরো অধিকতর উন্নয়নের কার্যক্রমকে বেগবান করতে আমাদের শারীরিক ও মানসিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন