আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (এফআরসি)। রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে গঠিত এ বৈশ্বিক নেটওয়ার্কটি আগামী ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন করবে। দুইদিনের এ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জাতিসংঘের দূত, অ্যাক্টিভিস্ট ও শরণার্থীরা। এফআরসি’র এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি খবরটি জানিয়েছে।

কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না মিয়ানমার। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গাবিরোধী নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আর বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা স্যাটেলাইট ইমেজ আর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে হত্যা-ধর্ষণ-ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত তুলে আনলেও মিয়ানমার ওই অভিযোগকে ‘অতিকথন’ কিংবা ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে তা নাকচ করে আসছে।

সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ জোরালো করতে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (এফআরসি)। রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও রোহিঙ্গাদের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এ নেটওয়ার্কের (এফআরসি) পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মিয়ানমার থেকে আসা এবং মিয়ানমার সম্পর্কে জানাশোনা থাকা অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদদের বিরল এক সমাবেশ ঘটবে। মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

অন্তারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ওআইডিএ) এর প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঘর-বাড়ি। আরও ১ লাখ ১৩ হাজার বাড়ি-ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ফেব্রুয়ারি/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন