১০ ডিসেম্বর মিরপুর ট্রাজেডি দিবস

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১০ ডিসেম্বর মিরপুর ট্রাজেডি দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাত্র পাঁচদিন আগে শিবালয় উপজেলার মিরপুর গ্রামে পাক-হানাদার বাহিনী তান্ডব চালায়। গ্রামের সকল বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে, গ্রামবাসীর উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে তিস্তেজ করে ফেলে পুরো গ্রাম। সেই দিনকে স্মরণ করে উপজেলার স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো নানা অনুষ্ঠানের আয়োজেন করে।

জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাতি যখন বিজয় সূর্য দেখার অপেক্ষায় ঠিক তখন ১০ ডিসেম্বর পাকসেনা ও দোসর রাজাকার-আলবদররা ওই গ্রামে হামলা চালায়। উথলী ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ইসমাঈল মোল্লার মিরপুর গ্রামের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আস্তনা গড়ে উঠে। এ সুবাদে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মনসুর আলম খানের নেতৃত্বে শিবালয়ে আরিচা ঘাটে স্থাপিত পাক সেনা ক্যাম্পে হামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ খবরে সকাল ১০টার দিকে দু’শতাধিক পাকসেনা-রাজাকার শিবালয়ের মিরপুর গ্রামে আক্রমন চালায়। মুক্তিযোদ্ধারাও জয় বাংলা ¯েøাগন দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। এসময় পাকিস্তানিদের গুলিতে মনসুর আলম আহত হন। পাকসেনারা বাড়ি-ঘর লুটপাট, ঘর-বাড়ি ছাড়খার ও মানুষ হত্যা করে ক্যাম্পে ফিরে যায়। তারা আরিচা ক্যাম্প থেকে ঢাকার দিকে রওনা দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা উপ-পরিচালক বিআরডিবি (অব:) ইয়াসিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী তেরশ্রী ক্যাম্পের অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা মিরপুর মোল্লাবাড়ি অবস্থান নিয়ে আরিচা ঘাটের পাকসেনা ক্যাম্পে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়। মিরপুর গ্রামে ঐতিহাসিক সম্মুখ যুদ্ধে পাকসেনারা মনোবল হারিয়ে পালাতে শুরু করে। এভাবেই গোটা শিবালয় এলাকা পাকহানাদার মুক্ত হয়।’

প্রধান শিক্ষক (অব:) মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, মিরপুর ট্রাজেডির ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীদের অবগত করি। দিবসটি সকলের কাছে চির স্মরণীয় করে রাখতে মোল্লাবাড়ি প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, সংগীত ও নাট্যানুষ্ঠানের আয়েজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ডিসেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন