পালিত হল বরিশাল মুক্ত দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো বরিশাল মুক্ত দিবস। শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর বগুরা রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. মোকলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি। বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সদর আসনের আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান হাওলাদারসহ অন্যরা।

বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের অগ্রযাত্রা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এছাড়াও বরিশাল মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক বাহিনী অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে এ শহর থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পাকবাহিনীরা ৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল । সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরুর পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি নেয়।

বরিশাল শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হানাদাররা নৌ-পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার শিকার। পরে পাকবাহিনীর জাহাজ কিউইসহ গানবোড ও কার্গো ধ্বংস হয়ে যায়। অপর অংশ বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে ডুবে যায়। ফলে এসব জাহাজে করে পালানোর সময় পাকসেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালালরা নিহত হয়। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবর শুনে বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে স্লোগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ডিসেম্বর/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন