জামিনে বেরিয়েই ফের প্রশ্নফাঁস সোহেল  চক্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রেফতারকৃত ৮ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫-১০ লাখ টাকার চুক্তি করতো প্রশ্নফাঁস চক্রটি। এই কাজের জন্য এ চক্রের মূলহোতা সোহেল রানা এর আগেও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই আবারও একই কাজ শুরু করে।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-কমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।

এর আগে শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর ও কলাবাগান এলাকা থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গ্রেফতারকৃরা হলো, সোহেল রানা, মাহমুদুল, আনসারুল ইসলাম, শ্রী দেবাশীস ও তিন পরীক্ষার্থী রবিউল আউয়াল, রাজিউর রহমান ও রেজাউল করিম। তাদের কাছ থেকে ৮টি প্রশ্নপত্র পাঠানোর ডিভাইস, ২৯টি ব্যাটারি, ৩টি পেনড্রাইভ, ৯টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ৯টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড ও ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সেটি সমাধানের জন্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতেন। এসব পরীক্ষায় চুক্তি অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতেই চক্রের কয়েকজন সদস্য পরীক্ষার্থী সেজে হলে প্রবেশ করতেন। সেখানে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া মাত্র ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে থাকা চক্রের অন্য সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দিত। এরপর বাইরে থাকা সদস্যরা দ্রুত প্রশ্নপত্র সমাধান করে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে তারা পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠাতো।

ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশে আয়োজকদের কোনও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততার তথ্য আমরা পাইনি। তবে এ চক্রে আরও সদস্য থাকতে পারে। আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ডিসেম্বর/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন