সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা তিস্তার শাখা নদীর উপর নির্মিত রামডাকুয়া সেতুটি ২০১৫ সালের বন্যা ভেসে যায়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। অনেক সময় ঘাটে নৌকা না পেয়ে সমস্যায় তাদের। সঠিক সময়ে পৌঁছতে পারেন না গন্তব্যে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘন্টার পর ঘন্টার খেয়াঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে পাড় হতে হয় তাদেরকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে তৎকালীন এই আসনের সাংসদ আব্দুল কাদের খান নিজ অর্থায়নে কোন ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান স্টিমেট ছাড়াই পৌর শহরের উপর দিয়ে তিস্তার শাখা নদীতে রামডাকুয়া সেতু নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকে সেতুটি নড়বড়ে ছিল। যানবাহন চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ। ২০১৫ সালে কয়েক দফা বন্যার স্রোতে সেতুটি ভেসে যায়। তখন থেকে নৌকা যোগে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ইউনিয়নের চর খোদ্দা, খোদ্দা, চর তারাপুর, নিজাম খাঁ, তালুক বেলকা, বেলকা নবাবগঞ্জ, কানি চরিতা বাড়ী, চর বিরহীম, চরিতাবাড়ী, কাশিম বাজার, বজরা, রিয়াজ মিয়ারচরসহ ২০ গ্রামের মানুষজন চলাচল করে আসছে।

সেতুটি ভেসে যাওয়ার পর স্থানীয় মনতাজ মিয়া জেলা পরিষদ থেকে খেয়াঘাটের লিজ নিয়ে এসে নৌকা দিয়ে লোকজন পারাপার করছে। তখন থেকে ২০ গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা হচ্ছে নৌকা।

স্থানী ব্যবসায়ী মফিদুল হক মন্ডল বলেন, ‘এই নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরের তরিতরকারি ও ফসলাদী শহরে নিয়ে আসা দুরহ্ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এতে ফসলাদী বিক্রি করে আমরা তেমন লাভও করতে পারিনা।’

এব্যাপারে পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সেতুটি নির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী বছরের শুরুতেই আমরা এই নদীর উপর সেতু নির্মানের কাজ শুরু করে পারবো।

 

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন