অবশেষে খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত

শাওন আসগর: চরম উৎকণ্ঠায় যাচ্ছিলো দিনগুলো। বিশেষ করে গত ক‘দিনে এদেশের মানুষের চোখে মুখে কেবলি ভাবনার রেশ আর উৎকণ্ঠার আবরণ। কী হচ্ছে কী হতে যাচ্ছে মানুষ এই ভাবনায় যতোটা না মুষড়ে পড়ছে তার চেয়ে বেশি হলো দেশ কোথায় যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের মতো আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে বেশ গরম খবর চাওর হচ্ছে। হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ার সব মনভোলানো খবর আর ইউ টিউবে ছড়ানো হচ্ছে নানারকম আন্দাজ করে খবরের রসাত্বক চুম্বক অংশ প্রচার। মনে হয় মিডিয়া বা কিছু কিছু নেতৃবৃন্দ আগেই সব খবর জেনে গেছেন।

একটি মামলার রায় নিয়ে কানাঘুষা চায়ের টেবিল থেকে রাজনৈতিক আড্ডায় ছড়িয়ে গেছে দিনদিন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট এর টাকা আত্বসাৎ নিয়ে ঘটে যাওয়া এই মামলাটি ২০০৮ থেকে চলে আসছে আর এর আসামী ধরা হয়েছে ০৬ জনকে। ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘ ১০ বছর গেলেও রায় একেবারে দিনক্ষণ বেঁধে চলতি মাসের আট তারিখে রাখা হয়। এই মামলার আইনী বিধানে যাই থাকুক তা নিয়ে যতোটা না আলোচনা তার চেয়ে বেশি খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কারণ সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে ঘন ঘন আদালতে যাতায়াত করার বিষয়টিও মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। এছাড়া ঘন ঘন পথিমধ্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও যানজটের কারণে মানুষের জীবন বিড়ম্বনায় পড়েছে অনেকবার। এসব মিলিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে প্রকৃতই খালেদা জিয়া কী এই অপরাধটি করেছেন কীনা, নাকি তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানী করা হচ্ছে ? তারপরও আদালতে দীর্ঘ দিন যুক্তিতর্ক এবং স্বাক্ষীদের জেরার অধ্যায় শেষ করেই এই রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু যতো বিপত্তি হলো কী হতে পারে এর সাজা। সরকারী কৌশলীরা সাত থেকে চৌদ্দ বছরের জেল চেয়েছে আর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা চেয়েছেন খালাস। এই সব বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে সাংবাদিক সম্মেলণ করে নিজেকে বরাবরই নির্দোষ বলে বিবৃতি দিয়েছেন। হতে পারে তা সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করবার জন্য। যদিও খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে এতিমদের টাকা ব্যাংকে জমা আছে এবং তা সুদ সমেত অনেক টাকা জমা হয়েছে।

দেশের সর্ববৃহৎ দলের নেতৃত্ব থাকার কারণেই মানুষের অন্তরে অতো স্থান দখল করছে বিষয়টি। আর এই কারণে রায়ের দিন ঠিক হলে বিএনপি সারাদেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা জানালে সরকারের বিভিন্ন উইংস নড়েচড়ে বসে যেনো এই একটি ইস্যূতেই সরকারের তখত্ কেঁপে ওঠবে।

একদিকে সবাইকে সংযত থাকার অভয়বাণী, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের স্বঘোষিত হরতাল বা কোলকাতার আদলে ‘সব বন্ধ’ দেশের সকল পরিবহন ব্যবস্থা নিজেরাই ভেঙ্গে দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ত্রাস সৃষ্টি করেছে যাতে জনগনের চরম ভোগান্তি হয়েছে, জনজীবন থমকে গেছে। সারাদিন পরিবহণে চেক পোষ্ট বসিয়ে চেকিং করা , বাসা বাড়িতে নেতা-কর্মীদের জন্য তল্লাসী করা দেখে মনে হয় দেশে যেনো আরেক যুদ্ধ বাধার উপক্রম। চারদিকে পুলিশ র‌্যাব বিজিবির টহল দেখে শংকার মাত্রা আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়। মনে হয় আমরা সবাই অনিরাপদ অস্বস্থিকর অবস্থায় বসবাস করছি। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন একজন নেত্রির কারণে সরকারের অতোটা বাড়াবাড়ি না হলেই ভালো হতো। কেবল মাত্র রাজধানীতে নয় বিষয়টির তাপ গ্রামে গঞ্জে গিয়ে ঠেকেছে। এতে দেশের কী উপকার হলো। নিরাপত্তার নামে সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ঠুর আক্রমনে এরই মধ্যে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জেলে। সরকারকে যারা বুদ্ধি দিয়ে আজ পুরো দেশের বেহাল অবস্থা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে আরো সজাগ ও নিষ্ঠাবান হওয়া প্রয়োজন।

অবশেষে খালেদা জিয়া পাঁচ বছরের জেল হলো। আপিলে গিয়ে কী হবে তার ওপর নির্ভর করছে বিএনপির ভবিষ্যত বা দেশের ভবিষ্যত। আতংকের অনেকটা সমাপ্তি ঘটলো দেশের আপামর জনগোষ্ঠির। তারপরও আশংকা যাবেনা আদৌ রাজনৈতিক বাতাসের তাপে ঘি পড়বেনাতো ? আবারো কী দেশে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে ?

আলোকিত প্রতিদিন/৮ ফেব্রুয়ারি/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন