দিনাজপুর আদালত প্রাঙ্গনে ছেলে-মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ | আলোকিত প্রতিদিন

দিনাজপুর আদালত প্রাঙ্গনে ছেলে-মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ

Spread the love

চন্দন মিত্র, দিনাজপুরঃ দিনাজপুর আদালত প্রাঙ্গনে আনুমানিক বিকাল ৪টার সময় ছেলে-মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষে মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঘটনার প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর/২০১৯ তারিখে দিনাজপুর তেরো মাইল গড়েয়ার ভাটগাঁ গ্রামের ফজির উদ্দিন এর পুত্র লাইমুন (২৬) এর সাথে মালগ্রাম এলাকার সিরাজুল ইসলাম এর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং মেম্বার এর উপস্থিতিতে মেয়েকে ৭০ হাজার টাকা মোহরানা এবং ১০ কাঠা জমি দেওয়ার স্বীকৃতি দিয়ে এফিডেভিট মূলে ও কাজীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার দিন ধার্য্য হয়। কিন্তু ছেলের বাবা মোঃ ফজির উদ্দিন পরবর্তীতে মেয়েকে জমি রেজিষ্ট্রী দিতে গেলে বেরিয়ে আসে মেয়ের প্রকৃত বয়স ১৬ বছর। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণেই জমি রেজিষ্ট্রী না হওয়ার কারণে জমি দিতে পারেন নি বলে জানান ছেলের বাবা মোঃ ফজির উদ্দিন। কিন্তু ইতিমধ্যে মেয়ে ছেলের সাথে অবস্থান করাকালীন মেয়ের পরিবার ছেলের বিরুদ্ধে কাহারোল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন; যার মামলা নং ০৭/১০, তারিখ-২৩/১০/২০১৯ ইং। গত ০৬ নভেম্বর রাত ১১টায় কাহারোল থানার এস,আই সুভাস চন্দ্র আসামী মোঃ লাইমুনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। ৭ নভেম্বর আসামী লাইমুন এর পরিবার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে এসে জবানবন্দী দিয়ে ছেলেকে জামিনের চেষ্টা করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করায় ছেলের পরিবারের সদস্যবৃন্দ মেয়ের পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং জোর পূর্বক মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মেয়ের পরিবার বাধা দেয় এবং উভয় পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টির কারণে মেয়েটিকেও আঘাত লাগায় মেয়েটি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অতঃপর কোর্ট ইন্সপেক্টর ইসরাইল এর নির্দেশে আদালত প্রাঙ্গনের পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে এবং মেয়েকে পরিবারের সাথে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এসময় কোর্ট ইন্সপেক্টর এর সাথে ঘটনা সম্পর্কে কথা বললে তিনি জানান, যেহেতু ছেলের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে এবং সেই মামলার জবানবন্দী মেয়ের কাছ থেকে নিতে হলে পুলিশের মাধ্যম হয়েই তাকে আদালতে এসে সাক্ষী দিতে হবে; এটাই নিয়ম। কিন্তু ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে এনে সাক্ষী দেওয়ার চেষ্টা করলেও আসামীর জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় উভয় পরিবারের মধ্যে যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল সেটা নিয়ন্ত্রণ ও শান্ত করার উদ্দেশ্যেই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। মেয়ের পরিবারের সদস্যদের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তারা জানান, আমাদের মেয়ের বয়স যেহেতু ১৬ বছর এবং তাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাই সেই পরিবারের সাথে আমাদের আর সম্পর্ক করার কোন ইচ্ছে নেই। আইনের মাধ্যমে যেটা হবে সেটাই মেনে নেব বলে মন্তব্য করেন।

 

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/৭ নভেম্বর/আসাদ

এই সংবাদ ৩৭ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন