বিয়ের দাবিতে পুলিশের পিতার বাড়িতে তরুণীর অনশন | আলোকিত প্রতিদিন

বিয়ের দাবিতে পুলিশের পিতার বাড়িতে তরুণীর অনশন

Spread the love

থেমে গেল শিক্ষা জীবন
ধামরাইয়ে বিয়ের প্রলোভনে ট্রেইনি পুলিশের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মাসুদ রানা, ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ, যুগলবন্দি অশ্লিল ছঁবি তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের তীর উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বড়নারায়ণপুর গ্রামের মো: আলামিন হোসেন নামে এক ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। বিয়ের দাবিতে ওই ট্রেইনি পুলিশের পিতার বাড়িতে প্রতারিত ওই তরুণী অনশন করছে দু’দিন যাবৎ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ওই তরুণী ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছে। ফলে ওই বাড়ির লোকজন ঘরে তালা লাগিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপন করেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনার শিকার হয়ে চিরতরে থেমে গেল ওই তরুণী স্কুল ছাত্রীর শিক্ষা জীবন। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে পরিবার থেকে ওই তরুণীকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কনস্টেবল পদে চলতি ঢাকা জেলা কোটায় পুলিশের জনবল পদে নিয়োগের পর (ট্রেইনি পুলিশ) বড়নারায়ণপুর গ্রামের মো: হাছেন আলী জুলুর ছেলে ট্রেইনি পুলিশের কনস্টেবল মো: আলামিন ওই তরুণীকে বিয়ে করার জন্য ৬ লাখ টাকা দাবি করে।
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার রাধারনগর গ্রামের হতদরিদ্র মো: আনোয়ার হোসেন আইনার মেয়ে ও ধুল্লা বি.এম উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী (সুলতানা আক্তার) এতো টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ওই ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে জানায়, দাবিকৃত টাকা না দিলে তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। তাহলে আমার পিতা অন্য কোনো স্থানে আমাকে বিয়ে দিয়ে আমার চাকরির জন্য ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করবে। এরপর আর আমার কিছুই করার থাকবে না। এসব কথাবার্তা শুনে একদম হতাশ হয়ে পড়ে প্রতারিত ওই তরুণী। সে কোনো উপায়ন্তর না দেখে বিষয়টি তার গ্রামবাসী মানুষের সরণাপন্ন হয়। পরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই তরুণীর বিষয়ে ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবলের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তরুণীর গ্রামবাসী মানুষের কথার কোনো কর্ণপাত না করলে ওই তরুণী নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করে।
সে কারও কোনো শাসন বারণ না মেনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বড়নারায়ণপুর গ্রামের ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল মো: আলামিন হোসেনের পিতা মো: হাছেন আলী জুলুর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে। খবর পেয়ে শত শত উৎসুক গ্রামবাসী তাকে দেখতে ওই বাড়িতে এসে ভীড় জমায়। অপর দিকে ওই বাড়ির সবাই ঘরে তালা লাগিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমতা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: দুলাল হোসেন ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতেও নাছোরবান্দা বিয়ের দাবিতে অনশনরত ওই তরুণী। তার সাফকথা আমি মরে যাব তবু বিয়ে না হলে এ বাড়ি ত্যাগ করব না।
ভিকটিমের এ ধরনের কথায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে পড়েন ওই ইউপি মেম্বার। পরে এ ব্যাপারে না›েদ্বশ্বরী গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মো: আয়নাল হকের কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যমান দু’পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাউখন্ড গ্রামের বর্ষিয়ান মাতব্বর মো: জনাব আলী মুন্সি। এতে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিয়ের দাবিতে অনশনরত ওই তরুণী ওই বাড়িতেই অবস্থান করছে। কোনো ভাবেই তাকে ওই বাড়ি থেকে সরানো যাচ্ছে না। এমনকি কোনো দানা-পানিও সে গ্রহণ করছে না।
এ ব্যাপারে হাছেন আলী জুলু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, দয়া করে আমার ছেলের চাকুরিটা নষ্ট করবেন না। মেয়েকে আমার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন।
এ ব্যাপারে বিয়ের দাবিতে অনশনরত তরুণী বলেন, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আলামিন হোসেন মহিষাশী মোহাম্মাদীয়া গার্ডেনসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে আমার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেছে। আমাকে জড়িয়ে ধরে আপত্তিকর বহুরকম ছবি তুলেছে। এরপরও সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় আমি নিরুপায় হয়ে আলামিনের পিতার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশন করছি।

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/৭ আগস্ট’১৯/জেডএন

এই সংবাদ ৯০৭ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন