প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে সাইন বোর্ড সরাতে বাধ্য হলো ভূমিদস্যু আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ | আলোকিত প্রতিদিন

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে সাইন বোর্ড সরাতে বাধ্য হলো ভূমিদস্যু আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ

Spread the love
অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে লীজপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের বিবৃতি

মো. আলমগীর হোসেন: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জবর দখলে রাখা সাংবাদিকদের লীজকৃত জমির উপর থেকে অবশেষে সাইনবোর্ড সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বুধবার সকালে সাভার বিরুলিয়ার খাগান এলাকার সাংবাদিকদের ওই জমি থেকে তারা তাদের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেয়। এর আগে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে লীজপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের সাইনবোর্ড কয়েকদফা ভেঙে নিজেদের সাইনবোর্ড টানিয়েছিল আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। সে সময় বাধা দিতে গেলে লীজপ্রাপ্ত কয়েকজন সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপর চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। এদিকে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে লীজপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা বিবৃতি দিয়েছেন।

জানা যায়, রাজধানী সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ভূমি দস্যু আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ লীজকৃত জমি জবর দখলসহ স্থানীয় জমির মালিকদের উচ্ছেদে মেতে রয়েছে। এই গ্রুপের আশুলিয়া মডেল টাউন প্রকল্প সাভারের বিরুলিয়ার খাগান ও হেমায়েতপুরসহ বেশ কিছু অঞ্চলে লিজকৃত সরকারি ভূমির লিজপ্রাপ্ত মালিকগণকে হটিয়ে সেই জমির উপরে অবৈধ সাইনবোর্ড বসিয়ে করছে গ্রাহক প্রতারণা। এসবের বিরুদ্ধে লিজপ্রাপ্তরা পদক্ষেপ নিতে গেলে লেলিয়ে দেয়া হয় সন্ত্রাসী বাহিনী। সিকিউরিটির পোশাকে থাকা ওই সব সন্ত্রাসী বাহিনী নানা সময়ে দিতে থাকে প্রাণনাশের হুমকি। ওই অঞ্চলের কিছু জমি সাংবাদিকরা লিজপ্রাপ্ত হয়ে সেখানে সাইনবোর্ড টানালে তাদের উপরেও ঘটে এমন সব ঘটনা। সাভার থানায় অভিযোগ দায়েরের পর বুধবার বিরুলিয়া ফাড়ি ইনচার্জ এসআই এনামুল হকের পদক্ষেপে অবশেষে তারা তাদের সাইনবোর্ডগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

রাজধানী সংলগ্ন সাভারের খাগান, দাম পাড়া, চৌবারিয়া মৌজায় প্রায় ৫৪৮.১৩ একর ভূমি অবৈধ ভাবে নিজ দখলে রাখার চেষ্টা করেছেন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। যে ভূমির মধ্যে ২০০৫ সালে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ভূমি মন্ত্রনালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড, কোর্ট অব ওয়ার্ডস ঢাকা নওয়াব এস্টেট ঐ বছরেই আনসার প্রত্যাহার ও অবৈধভাবে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সাইনবোর্ড প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও প্রয়োজনীয় সকল দপ্তরে চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে অবহিত করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ম্যানেজার ঢাকা নওয়াব এস্টেট কর্তৃক স্থানীয় সাভার থানায় ২০০৫ সালের জানুয়ারির ৭ তারিখে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিরুদ্ধে এজহার দায়ের করেন। এজহার দায়েরের ফলে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ সে সময় আনসার প্রত্যাহার ও সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে নিজ নামে সিকিউরিটি ও সন্ত্রাস বাহিনী তৈরি করে। পরে ভূমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ভূমি মন্ত্রনালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড কোর্ট অব ওয়ার্ডস ঢাকা নওয়াব এস্টেটকে তোয়াক্কা না করে নিজ খেয়াল খুশি মতো সরকারি ওই সব জমিতে সাইনবোর্ড উত্তোলন এবং নিজ সিকিউরিটি ও গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে সরকারি জমির আশেপাশে পাহারা চৌকি বসিয়ে সাধারণ জনগণের মনে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে। এরপর সর্বশেষ বিএস রেকর্ড যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড, কোর্ট অব ওয়ার্ডস ঢাকা নওয়াব এস্টেটের নামে প্রস্তুত হয়, যা বর্তমানে চলমান।

এরপর সরকারি রাজস্ব আয়ের জন্য উক্ত পতিত ভূমি সরকার লীজ প্রদান শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড, কোর্ট অব ওয়ার্ডস ঢাকা নওয়াব এস্টেট ১৪১-১৪৩, মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা ঢাকা-১০০০ হতে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ নুরুল হুদা এবং সাংবাদিকগণ উক্ত সরকারি ভূমি হতে সর্বমোট পৌনে চার (০৩.৭৫) একর নিম্ন তফসিল বর্ণিত ভূমি ব্যাংক ড্রাফট-এর মাধ্যমে লীজ গ্রহণ করে দলিল সম্পাদন করার পর হাল সনের লিজ মানি পরিশোধ করেন।

তফসিল- জেলা: ঢাকা, থানা: সাভার, ৬২৩ নং মৌজা খাগান, সি এস খতিয়ান নং-০১, চূড়ান্ত প্রকাশি বি এস খতিয়ান নং-৩, সি এস দাগ নং- ১৪৪- চূড়ান্ত প্রকাশিত হাল (বি এস) দাগ নং- ৯৩২, ৯৩৩, ৯৩৪, ৯৩৫, ৯৩৬, ৯৩৭, ৯৩৯, ৯৪০, ৯৪১, ৯১২, ৯১১ এবং সি এস দাগ নং- ১৪৮- চূড়ান্ত প্রকাশিত হাল (বি এস) দাগ নং- ৯৪০, ৯৪১, ৯৪২, ৯৪৩, ৯৪৪, ৯৪৫ এবং সি এস দাগ নং- ১৪২- চূড়ান্ত প্রকাশিত হাল (বি এস) দাগ নং- ৮৯০, ৮৯১, ৮৯২, ৮৯৩, ৮৯৪, ৮৯৫, ৮৯৬, ৮৯৭, ৮৯৮, ৮৯৯, ৯০০, ৯০১, ৯০২, ৯০৩, ৯০৪, ৯০৫, ৯০৬, ১১১১, ১১১২, ১১১৪, ১১১৫, ১১১৬, ১১১৭, ১১১৮, ১১১৯, ১১২০, ১১২১, ১১২২, ১১২৩।

উক্ত ভূমি লীজ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দখল বুঝে নিয়ে সাংবাদিকগণ শান্তিপূর্ণ ভাবে সাইনবোর্ড উত্তোলন করে। উক্ত সময়ে লীজকৃত ভূমিতে স্থাপনা তৈরির জন্য ভূমি সংলগ্ন সরকার বাড়ী (২য় তলা) বাসা নং ১০, ব্লক নং এ, রোড় নং ০১, খাগান, বিরুলিয়া সাভার, ঢাকা এ দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের সাভার শাখা অফিস ভাড়া নিয়ে সেখানে সাংবাদিক ও সিকিউরিটিগণ পত্রিকা অফিস ও লীজকৃত ভূমি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধ্যানে আরো জানা যায়, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিকগণের উত্তোলনকৃত সাইনবোর্ড আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ সিকিউরিটি ও গুন্ডা বাহিনী দিয়ে ভেঙ্গে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মহামান্য হাই কোর্টের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ড উক্ত ভূমিতে সাংবাদিকগণ উত্তোলন করিলে পূর্বের কায়দায় ভেঙ্গে নিয়ে যায়। সর্বশেষ ০১/১২/২০১৮ তারিখে সাংবাদিকগণ মহামান্য হাইকোর্টের রিটের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ড উত্তোলন করলে তার পরবর্তী দিনেই পালিত গুন্ডা বাহিনী ও সিকিউরিটিদের দিয়ে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কায়দায় ফিল্মি স্টাইলে সাইনবোর্ডটি তুলে নিয়ে যায় এবং ‘আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খরিদকৃত সম্পত্তি’ লিখিত সাইনবোর্ড উক্ত লীজকৃত ভূমিতে উত্তোলন করে সিকিউরিটি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পাহাড়া চৌকি বসিয়ে দেয়। এ বিষয় স্থানীয় সাভার মডেল থানায় গত ০২/১২/২০১৮ তারিখে লীজি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ক্রাইম রির্পোটার বাদি হয়ে এজাহার দায়ের করেন। পরবর্তিতে উক্ত বিষয়টি নিয়ে সাভার মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল আওয়াল এজাহারটির তদন্তের জন্য ওসি ইনটিলিজেন্স এমারত হোসেনকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসিকে ফোন করলে তিনি জানান, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপকে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখা করতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিকগণের লীজকৃত ভূমির বৈধ কাগজপত্র নিয়েও দেখা করতে বলেন। বর্তমানে জমাকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি আশা করছেন, বিষয়টি কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাবস্থা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘উক্ত এলাকায় লীজকৃত ভূমি নিয়ে যেনো কোনো ধরণের বিবাদ যেনো তৈরি না হয়। সেজন্য ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই এনামুলকে নির্দেশ দেওয়া আছে।’ এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন।

তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, উক্ত কার্যকলাপ দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাব অফিসের সিসি ক্যমেরায় ভিডিও ফুটেজ গুলো ধারণকৃত রয়েছে। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে আশুলিয়া মডেল টাউন এতোদিন সাংবাদিকগণের লীজকৃত জমিতে যে সব কর্মকান্ড চালিয়েছে তার অবসান হয়েছে। সাভার মডেল থানা পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত বুধবার সরকারি লিজকৃত সাংবাদিকদের ভূমির উপর গেড়ে রাখা আশুলিয়া মডেল টাউনের অবৈধ সাইনবোর্ড সরিয়ে নিতে তারা বাধ্য হয়েছে।
কোর্ট অব ওয়ার্ডস ঢাকা নওয়াব এস্টেট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের থেকেই সরকারকে কোনোরকম তোয়াক্কা বিরুলিয়ার ও আশুলিয়ার নওয়াব এস্টেট, জলাধার ও পানি নিষ্কাশন পথ দখল নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আশুলিয়া মডেল টাউন’ প্রকল্প। বাস্তবে এ প্রকল্পের কোনো অনুমোদন না থাকলেও চলছে বেচাবিক্রি। প্রকল্পের লে-আউট নকশায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রকল্পের সীমানা দেখালেও তার অধিকাংশই দখলকৃত। যার মধ্যে সরকারি জমি ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানার বিপুল পরিমাণ জমি। ফলে জমি কিনেও দখল বুঝে পাচ্ছেন না প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়া ক্রেতারা। টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ভাড়াটে ও পোষা সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানা যায়। সম্প্রতি আলোকিত প্রতিদিনের তথ্যানুসন্ধানে প্রতারণার এসব তথ্য সামনে চলে আসে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ ডিসেম্বর/আরএইচ

এই সংবাদ ৪৪৪ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন