সুন্দরগঞ্জে ভূয়া স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে বাধ্য করিয়ে ভূয়া স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভাড়া বাসায় অবৈধ বসবাসের অভিযোগে মানিক চন্দ্র কর্মকার ও তার নকল স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত অবৈধ বসবাসকারী ভ‚য়া স্বামী-স্ত্রীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দিনগত গভীর রাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের ৯নম্বর ওয়ার্ডের মাষ্টারপাড়াস্থ জনৈক আব্দুল আউয়ালের বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেন থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মানিক চন্দ্র কর্মকার উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নে পূর্ব রামজীবন (নিজপাড়া) গ্রামের মন্টুরাম কর্মকারের পুত্র। মানিক চন্দ্র পেশায় দর্জি। সে স্থানীয় ডোমেরহাট বাজারে দর্জিগিরি করেন। তার নকল স্ত্রী একই এলাকার জিন্নাত আলীর মেয়ে ও সুন্দরগঞ্জ ডিডব্লিউ সরকারী কলেজের ছাত্রী। মানিক চন্দ্রের পেশাগত কারণে কলেজ ছাত্রী তার দোকানে জামা-কাপড় তৈরি করে নেয়ার জন্য যাওয়ায় কৌশলে নানাভাবে কলেজ ছাত্রীকে বাধ্য করে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। তারা দুজনে প্রত্যেক ২/১ মাস পরপর বাসা পরিবর্তন করে নতুন নতুন বাসায় তাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচয় দিয়ে বাসা মালিকদের কাছে পরিচিত হতো। মানিক চন্দ্রের স্ত্রী-সন্তান আছে। সে ৩ বছর পূর্বে তার প্রথম মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। এব্যাপারে বাসার মালিক আব্দুল আউয়াল বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ওরা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে এতদিন তার বাসায় বসবাস করত। কিন্তু, তাদের বয়সের ব্যবধানসহ বিভিন্ন কারণে সন্দেহ হওয়ায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর প্রমাণ দেখতে চাইলে তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী মানিক চন্দ্র কর্মকারের স্বজনদের নানান হুমকী অতিক্রম করে ঐ কলেজ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা করার সাহস পায়নি।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চত করে থানা অফিসার ইনচার্জ- এসএম আব্দুস সোবহান জানান, এ ব্যাপারে থানার এসআই সামছুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করার পর আসমীদ্বয়কে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/১২ অক্টোবর/আসাদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন